একতরফা নির্বাচনের গল্প ও বাস্তবতা: দায় কার?

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সন্ধ্যা ০৭:৪৮, সোমবার, ২০ মার্চ, ২০২৩, ৬ চৈত্র ১৪২৯
  • নির্বাচনী বছর এলেই ‘আষাঢ়ের গল্প’ শুরু করে বিএনপি।
  • ২০১১ সালে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা’ বাতিল করেছে আপিল বিভাগ।
  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলও হয়েছিল বিএনপির কারণেই।
  • ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই ২০ দলীয় জোটকে নিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি।

বিভিন্ন কারণেই রাজনীতির মাঠে নিষ্প্রভ বিএনপি। কিন্তু নির্বাচনী বছর এলেই ‘আষাঢ়ের গল্প’ শুরু করে মাঠের এই বিরোধী দল। এবারও একতরফা নির্বাচনের গল্প শোনাচ্ছেন দলটির নেতারা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে দেশি-বিদেশি সব মহলে শুরু করেছে বিভিন্ন তদবিরও। তবে সব চেষ্টাই ভেস্তে যাচ্ছে। মূলত একতরফা নির্বাচনের গল্প বললেও এর দায় বিএনপিরই বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকরা বলেন, আগামী নির্বাচন ঘিরে বিএনপির মূল দাবি হলো- ‘নির্দলীয় বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন’। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অসম্ভব। এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এজন্য বিল পাশ করতে হবে জাতীয় সংসদে; যদিও বিএনপির কেউ সংসদে নেই। একই সঙ্গে আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে তাদের। কারণ ২০১১ সালে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা’ বাতিল করেছে আপিল বিভাগ।

এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলও হয়েছিল বিএনপির কারণেই। মূলত বিএনপিই এটিকে বিতর্কের মুখে ফেলেছিল বলে দাবি বিশ্লেষকদের। অথচ তারাই এখন আদালতের মাধ্যমে বাতিল হওয়া ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ মতো অবৈধ বিষয়টি বৈধ করতে চাইছেন।

গত বছরের শেষদিক থেকে আন্দোলন করছে বিএনপি। আন্দোলনে সুফল না পাওয়ায় দলটির নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রচেষ্টার অভিযোগ করছেন। এমন গল্প শুনিয়ে দলটি ২০১৪ সালেও বানচালের চেষ্টা করেছে দশম সংসদ নির্বাচন। কিন্তু ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই ২০ দলীয় জোটকে নিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি এবং তারা মাত্র ছয়টি আসন পেয়েছে।

তথ্যমতে, সর্ব দলীয় আন্দোলনের মুখে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকারের অধীনেই একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি দলটি। একপর্যায়ে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হলে তার অধীনে ফের জাতীয়  নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ সরকার, যা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল দেশে-বিদেশে। কিন্তু ২০০৬ সালে বিএনপি ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির অপব্যবহারের চেষ্টা করলে ওয়ান ইলেভেনের মতো অসাংবিধানিক সরকার চেপে বসে জাতির ঘাড়ে। প্রশ্নবিদ্ধ হয় 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার' ব্যবস্থা।

ফলে ২০০৯ সালের নির্বাচনে বিজয় অর্জন করে আওয়ামী লীগ সরকার গঠিত হওয়ার পর ২০১১ সালে তত্ত্বাবাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বিল পাশ হয়েছিল সংসদেও।

সমালোচকরা বলছেন, সরকারের অধীনে নির্বাচনে আসতে শুধু বিএনপিরই সমস্যা। অথচ সব দলই যার যার মতো করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এবারও ২০১৩-১৪ সালের সুর তুলেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। আগামী নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বানচাল করতে সব ধরনের চেষ্টাই চালাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ দাবি তুলে বিদেশি কূটনৈতিকদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন তারা। কিন্তু আইনিভাবে বিষয়টি বাতিল হওয়ায় বিদেশিরাও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করছেন না। ফলে দাবি ‍তুলেও মিলছে না কোনো সুফল। নির্বাচন বয়কটের মাধ্যমে  সব সুযোগ হাতছাড়া করে একতরফা নির্বাচনের গল্প শুরু করেছে দলটি, যার বাস্তবতার দায় তাদেরই নিতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Share This Article


রাজাকার পরিচয় বহনকারীদের বাংলা ছাড়ার দাবি সারাদেশে

দেশে দেশে কোটা ব্যবস্থা

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিটের ছাত্রদের মেধার এতো অধঃপতন!

শিক্ষার্থী আন্দোলন ফায়দা লোটার আত্মঘাতী কৌশল

যুক্তরাজ্যে থাকতে হলে রাজনীতি ছাড়তে হবে তারেককে!

কোটা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হলো যেকারণে

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে কোটা আন্দোলনকারীদের আহবান বিএনপির!

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: প্রত্যাশার চাইতে প্রাপ্তি কম কিসে?

কোটা বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে বিবিসির চাঞ্চল্যকর তথ্য!

কোটা আন্দোলন: লিমিট ক্রস করলে কঠোর হবে সরকার!

কোটা সুবিধায় ভর্তি ও চাকুরী করেও কোটা বাতিল চাইছেন তারা!

পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী নিহতের ফেক নিউজ: উত্তেজনা বৃদ্ধির কৌশল!