রাজনৈতিক সংলাপকে স্বাগত জানাবে কূটনীতিকরা

  বিডি পিপলস ভয়েস ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সকাল ০৯:৫৭, সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০২২, ১০ শ্রাবণ ১৪২৯

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে একটি সংকটের শঙ্কা করা হচ্ছে। আগামী নির্বাচন পশ্চিমা দেশগুলো অংশগ্রহণমূলক দেখতে চায়। বিশেষ করে বিএনপিসহ অন্যান্য প্রধান রাজনৈতিক দল যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে, নির্বাচন যেন অবাক সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হয় এবং জনগণের মতামতের যেন প্রতিফলন ঘটে সেটি নিশ্চিত করতে চায়।

 আর এরকম একটি চিন্তার জায়গা থেকে সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক সঙ্কট ঘনীভূত হতে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি বলেছে যে, তারা ২০১৮ সালের মত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচনেই তারা অংশগ্রহণ করতে চায় না। এরকম পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচন নিয়ে যখন একটি অনিশ্চয়তা, ঠিক সেইসময় প্রধানমন্ত্রীর চায়ের দাওয়াত রাজনীতিতে একটি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল আওয়ামী লীগের এক বৈঠকে বিরোধী দলের আন্দোলনকে স্বাগত জানিয়েছেন। এমনকি তারা যদি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করতে চায় তাহলে প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে স্বাগত জানিয়েছেন, তাদের কথা শুনতে চেয়েছেন এবং তাদেরকে চা খাওয়াতে চেয়েছেন। এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় চলছে। যদিও বিএনপি বলেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারা চা খেতে পারেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিতবাহী এবং এর পিছনে একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দিক নির্দেশনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জেনে-বুঝেই চায়ের দাওয়াত দিয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এবং কূটনৈতিক মহলও আশান্বিত হয়েছেন। তারা মনে করছেন যে, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অর্থবহ সংলাপ হওয়া দরকার।

নির্বাচন কমিশন গঠনের আগেও রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু বিএনপি সেই সংলাপে যোগদান করেনি। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া থেকে বিএনপি নিজেদেরকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল। এরপর নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। নতুন নির্বাচন কমিশন আগামী নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছে। এই সংলাপেও বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। ফলে রাজনীতিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি ঐক্যমতে পৌঁছানোর সুযোগটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলেও অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ মনে করছিলেন যে, আগামী নির্বাচনের আগে দেশে হয়তো একটি সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ফিরে আসবে। কিন্তু এই সমস্ত শঙ্কার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর যে চায়ের দাওয়াত তা রাজনীতিতে নতুন চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের সাথে একটি সংলাপ করবেন, আলাপ-আলোচনা করবেন এবং সেই আলাপ-আলোচনা শুরুর ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে গতকালের বক্তব্যের মাধ্যমে।

বিভিন্ন পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকরা যারা আগামী নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক, অংশগ্রহণমূলক করতে চান তারাও বলছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর যে আহবান সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ। একাধিক কূটনৈতিক প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপ করে দেখা গেছে, তারা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। মনে করছেন যে, যেকোনো বিষয় নিয়ে সরকার এবং বিরোধী দলের মধ্যে আলাপ-আলোচনা হতে পারে এবং এই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তারা একটি সমঝোতার অবস্থানে পৌঁছতে পারে। এই সমঝোতাটি নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। প্রায়ই ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হয় যে, ক্ষমতাসীন দল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কর্মসূচি করার সুযোগ দেন না, বিরোধী মতকে দমন করা হয়। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্ট বার্তা দিলেন। তিনি বললেন যে, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করলে সে আন্দোলনকে স্বাগত জানানো হবে। ফলে পশ্চিমা মহল যারা আগামী নির্বাচন নিয়ে নানারকম তৎপরতা দেখাচ্ছিলেন তারা এখন নতুন করে ভাবতে বসবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর যে ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য সেই বক্তব্যের সূত্র ধরে একটি রাজনৈতিক সংলাপের পরিবেশ তৈরির জন্য কাজ করবেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Share This Article