কূটনীতিকদের নাক গলানো বন্ধ হোক

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ বিকাল ০৪:০৭, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২২, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকরা দিন দিন তৎপর হয়ে উঠছেন। নির্বাচন নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস, ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন এবং অন্যান্য কূটনীতিকরা ক্রমাগত কথা বলে যাচ্ছেন। তারা নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছেন। বিভিন্ন দলের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন।

 

নির্বাচন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বিদেশি দূতদের আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ দুঃখজনক। আমরাও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পক্ষে। ইতোমধ্যে একটি নতুন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। সেই নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের প্রতি সবার আস্থা থাকা প্রয়োজন। আগ বাড়িয়ে বিদেশি দূতদের মন্তব্য করা, মাথা ঘামানোর সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপ পুরনো ঘটনা, বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকে এ দেশের রাজনীতিতে যখন সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণ শুরু করে তখন থেকেই বাংলাদেশ কী করবে, কীভাবে করবে- সব নির্দেশনাই আসতে থাকে বিদেশ থেকে। পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে তখন রাজনীতির জন্য অর্থের জোগান হলেও রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হতো মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার গোয়েন্দা তৎপরতার ভিত্তিতে।

এমন হস্তক্ষেপের চিত্র কিছুটা পরিবর্তন হলেও কমছে বলা যাবে না। দেখা যাচ্ছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা কিছুদিন ধরে মন্তব্য করে যাচ্ছেন। রাজনীতিক বিশ্লেষকরদের মতে, এমন অবস্থার জন্য আমরা দায়ী। বিদেশিদের কথা বলার সুযোগ আমরা করে দিচ্ছি।

এ দেশের রাজনীতিবিদরা যখনই সরকারের বাইরে থাকেন তখনই ‘নালিশ’ নিয়ে গিয়ে হাজির হন বিদেশিদের কাছে। এটা এখানকার রাজনৈতিক বাস্তবতা। রাষ্ট্রদূতদের দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ শিষ্টাচারবহির্ভূত একটি কাজ। তবে শিষ্টাচারবহির্ভূত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কূটনীতিকরা যেমন একদিকে দায়ী, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের বিবদমান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহাবস্থান না থাকাও সমানভাবে দায়ী।

আগামী নির্বাচন নিয়ে অন্য দেশের সহযোগিতা চেয়ে কার্যত সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে বিএনপি। এমন অভিযোগ করছেন সরকারদলীয় একাধিক নেতা। আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা নতুন নয় এবং সে অস্থিরতার ফলে বাইরের হস্তক্ষেপ হয়ে থাকে।

এরশাদ সরকারের পতনের পর তথা ১৯৯০ সালের পর থেকে যত সরকারই এসেছে, এ দৃশ্য বারবার দেখা গেছে। সেই দৃশ্য এখন আবার দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়েছে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তাই আমাদের নিজেদের নিজে সম্মান দেয়া দরকার।

সমস্যা থাকবেই এবং তা নিজেদের মধ্যেই আলোচনা, প্রতিবাদের মাধ্যমে সমাধান করে নিতে হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বদনাম করা বা নালিশ করার রাজনৈতিক পদ্ধতি থেকে সব রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীগুলোর বেরিয়ে আসা দরকার। যাতে বিদেশিরা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে হস্তক্ষেপ করতে না পারে।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের জন্য প্রয়োজন সরকার এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সহাবস্থান। নিজেদের ভুল, নিজেদের অপকর্ম এসবের দায় ও দায়িত্ব যেমন নিজেদের, তেমনই এসব শুধরানোর দায়িত্বও আমাদেরই।

বিষয়ঃ বাংলাদেশ

Share This Article

বাংলাদেশের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন আইএমএফের

নেপালের উপপ্রধানমন্ত্রীকে সরিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট

তারেকের বিরুদ্ধে রেমিট্যান্স গায়েবের অভিযোগ !

গোপনে নির্বাচনী সমঝোতা করছে বিএনপির হাইকমান্ড!

শরিকদের সাথে প্রতারণা, ভরাডুবি হলে সব দায় বিএনপির !

প্রধানমন্ত্রীর জনসভার উদ্দেশে মাদ্রাসা মাঠে আসছেন নেতাকর্মীরা

আমনে ভাসছে দেশ: বিঘা প্রতি কৃষকের মুনাফা ১৮ থেকে ২১ হাজার টাকা!

একদিকে আন্দোলন,আরেকদিকে নির্বাচনের জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত বিএনপির!

গুজব কাটিয়ে ব্যাংকে আস্থা ফিরেছে সাধারণ মানুষের

ক্ষমতা ছাড়াই হাজার কোটির সম্পত্তি বিএনপি নেতা আমানের