গরুর হাট নিয়ে তারকাদের যত স্মৃতি

  বিডি পিপলস ভয়েস ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সকাল ১১:১৯, বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই, ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯

ঈদ মানেই আনন্দ। তবে কোরবানির ঈদের আনন্দটা যেন অন্যরকম। পছন্দের প্রাণীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নানা স্মৃতি, যা নিয়ে ঈদের আগে থেকেই শুরু হয় নানা আলোচনা। আর সেই আলোচনার পুরোটাই জড়িয়ে থাকে গরু ও নানা মজার অভিজ্ঞতা।

 

সাধারাণ মানুষের পাশাপাশি শোবিজ তারকাদের জীবনেও আছে এমন অসংখ্য ঘটনা। তা মনে করে এখনো তারা হাসিতে মেতে ওঠেন। গরুর হাটে ঘটে যাওয়া এমন কিছু ঘটনা জানাচ্ছেন তারকারা।

অভিনেতা মিশা সওদাগর: ২০০৬ বা ২০০৭ সালের ঘটনা। শীতের মধ্যে কোরবানির ঈদ। গরু কিনতে হাটে গিয়েছিলাম আগের দিন রাতে। মূলত ঈদের আগের দিন বা দুদিন আগেই হাটে যাওয়া হয়। যাই হোক, ওই সময় শীতের দিন মুখে মাফলার পেঁচিয়ে হাটে ঢুকলাম। অনেক ঘুরলাম গরু পাচ্ছি না। হঠাৎ খেয়াল করলাম, মাফলার খুলে গেছে। নতুন করে বাঁধার আর সুযোগ পেলাম না। চারদিকে তখন শুধু ‘মিশা ভাই, মিশা ভাই’ বলে চিৎকার শুরু হয়ে গেছে। আর চারদিক থেকে লোকজনও আমাকে ঘিরে ফেলল। শেষে হাট কমিটির সাহায্যে রক্ষা পেলাম। এরপর একটা গরু কিনে কোনো মতো বাসায় ফিরলাম।

ব্যান্ডশিল্পী মাকসুদ: বাবার সঙ্গে ছোটবেলায় গরু কিনতে যেতাম। গরুর কেনার অনেক মজার অভিজ্ঞতা আছে আমার জীবনে। ছোটবেলা একবার গরু কিনতে গিয়ে বিপাকে পরতে হয়েছে। সালটা মনে নেই, সেদিন প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টিতে ভিজেই কয়েক ঘণ্টা ধরে গরু খুঁজলাম। 

একটা সময় দাম মিলে যায় আর গরুও কেনা হয়। এরপর গরু কিনে বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ হ্যাঁচকা টানে কাদাপানিতে পড়ে গেলাম। আমিও কাদার মধ্যে উপুড় হয়ে পড়লাম। ওঠার চেষ্টা করেও উঠতে পারছিলাম না। সবাই আমার দিকে তাকিয়ে হাসছিল। সেদিন কী যে লজ্জা পেয়েছি, যা আজও মনে পড়লে হাসি পায়।

চিত্রনায়ক ফেরদৌস: ছোটবেলা থেকে হাটে যাওয়ার খুব একটা নেশা আমার কখনই ছিল না। গরু নিয়ে আমার তেমন মজার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তবে ভালোবাসার খুব ঘটনা আছে। কোরবানির গরু কিনে বাসায় আনার পর তার সঙ্গে আমার ভাব হয়ে যেত। কোরবানির আগ পর্যন্ত রাত-দিন আমি গরুর খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সব খেয়াল রাখতাম। ছোটবেলা থেকেই আমি পশু-পাখি ভালোবাসি। তাই ওদের সঙ্গে আমার ভাব হতে সময় লাগত না। পশু-পাখির ক্ষতি হলে আমার মনও খারাপ হয়ে যেত। তাই কোরবানির গরুটি যখন জবাই করা হতো, তখন আমার ভীষণ মন খারাপ হতো। এমনো হয়েছে অনেক কান্নাকাটি করতাম।

সংগীতশিল্পী তাহসান: ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে গরুর হাটে যেতাম। কিন্তু বেশি ভেতরে ঢুকতাম না। কারণ গরুর গুঁতো খাওয়ার একটা ভয় কাজ করত। তবে গরু কেনার বিষয়গুলোর মজার ছিল। আবার বেশিক্ষণ হাটে থাকতে ইচ্ছাও করত না। আমার কথা, হাটে যাব, গরু কিনব, আর বাসায় চলে আসব। কিন্তু বিষয়টি তো আর এত সহজ না। সবচেয়ে বেশি মজা লাগত জিজ্ঞাসা করতে, ‘ভাই গরুর দাম কত?’ আর সবচেয়ে বিরক্ত লাগত অন্যরা যখন আমাকে জিজ্ঞাসা করত!

অভিনেতা সিয়াম আহমেদ: আমি মনে করি, কোরবানির ঈদের মূল মজাটা ছোটবেলায়। সেসময় বাবার সঙ্গে কোরবানির পশু কিনতে হাটে যেতাম। আর একা একা কতবার যে হাটে যাওয়া হতো, তার কোনো হিসাব ছিল না। বাবা অনেক দেখে শুনে গরু কেনেন। কেনার পর গরুর দড়ি ধরে আনন্দ নিয়ে বাসায় নিয়ে আসতাম। আর হাটের মধ্যে যে কত দৌড় দিয়েছি, তার কোনো হিসাব নেই। যারা হাটে  গেছেন তারা জানেন, হাটগুলোতে গরুর ভিড়ে চলাফেরা করা কষ্টকর। যতই সাহস নিয়ে হাটে যেতাম, তত সচেতনও থাকতে হতো; কখন কোথা থেকে গরু ছুটে আসে। এর মধ্যেই ছিল অন্যরকম একটা আনন্দ। এখনো সেসব স্মৃতি খুব মনে পড়ে।

সংগীতশিল্পী হৃদয় খান: ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে গরু কেনাটা ছিল নেশার মতো। আর গরু কেনার আগে থেকেই বিভিন্ন হাট ঘুরে বেড়াতাম। বিশাল সাইজের গরুর জন্য বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকতাম। সেসময় কোরবানির ঈদ মানে অন্যরকম একটা উৎসব কাজ করত। গরু কিনে কখনো একা বাসায় ফিরতাম না, কয়েকজন মিলে সেটা বাসায় নিয়ে আসতাম। একবার এক দুষ্টু গরু কিনে হাট থেকে বাসায় ফিরছিলাম। রাস্তায় গাড়ির শব্দ শুনে দড়ি ছুটে গরু সেই দৌড়। আমরা সবাই মিলে ওকে ধরে রাখতে পারলাম না। আমাদের অবস্থাও কাহিল। যে দৌড় সেদিন দিয়েছি, তা আজও মনে পরলে হাসি পায়।

Share This Article