দেশে দেশে মুদ্রাস্ফীতি

  বিডি পিপলস ভয়েস ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সকাল ১০:০৫, মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০২২, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে উঠেছে। এটি সেই দেশে ১৯৮১ সাল–পরবর্তী ৪০ বছরে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির রেকর্ড। বিশ্বের আরেক উন্নত দেশ যুক্তরাজ্যে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯ শতাংশে উঠেছে। দেশটিতে গত চার দশকের মধ্যে আর কখনোই মূল্যস্ফীতি এতটা ওপরে ওঠেনি।

নিউজিল্যান্ডের মতো ধনী দেশে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ইতিমধ্যে ২২ বছরের মধ্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। দেশটিতে মূল্যস্ফীতি এখন ৬ দশমিক ৯ শতাংশে উঠেছে। আবার তুরস্ক যেন সব দেশকেই ছাড়িয়ে গেছে বার্ষিক মূল্যস্ফীতিতে। সেই দেশে মূল্যস্ফীতি ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশে উঠে গেছে, যা ১৯৯৮–পরবর্তী ২৪ বছরে সর্বোচ্চ। চারটি দেশের মূল্যস্ফীতির এ হিসাব সর্বশেষ মে মাসের।

ধনী–গরিবনির্বিশেষ বিশ্বজুড়ে দেশে দেশে এখন মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে। এ জন্য ভোক্তাদের অনেককেই খরচ কমাতে হচ্ছে।
 

একইভাবে বিশ্বব্যাপী দেশে দেশে এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রকোপ চলছে। এশিয়ায় ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়াসহ প্রায় সব অঞ্চলেই মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী। ইউরোপ–আমেরিকার মতো উন্নত অঞ্চলগুলোতেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে। কোনো কোনো দেশে মূল্যস্ফীতি পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি বেড়েছে বলে খবর বেরোচ্ছে। এদিকে চলতি বছরে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়াবে বলে পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশে দেশে জীবনযাত্রার সংকট গভীর হচ্ছে। বিশেষ করে করোনার প্রভাব কাটাতে না কাটাতেই রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পাশপাশি বিশ্ববাজারে খাদ্য, জ্বালানিসহ পণ্যসামগ্রীর দাম ও জাহাজভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাস, তেল ও খাদ্যশস্যের দাম বেড়েছে। এতে বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোই বেশি বেকায়দায় পড়েছে। তাদের ওপর উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ পড়ছে। এ জন্য ভোক্তাদের খরচ কমাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় নীতিনির্ধারকদের ওপরও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চাপ বাড়ছে।

বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ জানায়, সর্বশেষ মে মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় খাদ্যপণ্যের দাম ১০ শতাংশ ও জ্বালানির দাম ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে। সেই দেশে ১৯৮১ সালের পর এতটা মূল্যস্ফীতি আর দেখা যায়নি।

যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই দেশে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী থাকবে বলে জানিয়েছে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের পূর্বাভাস হচ্ছে, আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ উঠে যাবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে বেশ বেকায়দায় পড়েছে তুরস্ক। এ সমস্যার জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের অর্থনৈতিক নীতিকে দায়ী করছেন সমালোচকেরা। কিন্তু এরদোয়ান বলছেন, উচ্চ সুদে ধার নেওয়ার কারণেই মূলত খরচ বেড়েছে। তাঁর এই বক্তব্যকে আবার প্রতিষ্ঠিত অর্থনৈতিক চিন্তাধারার বিপরীত বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

তুর্কি পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের (টিএসআই) তথ্য অনুযায়ী বার্ষিক মূল্যস্ফীতিতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পরিবহন খাতে। এ খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০৭ দশমিক ৬ শতাংশে উঠেছে। এর পেছনেই রয়েছে খাদ্য ও অ্যালকোহলবিহীন পানীয়। দেশটিতে খাদ্য ও অ্যালকোহলবিহীন পানীয়ের দাম এক বছরে বেড়েছে ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ।

দক্ষিণ এশিয়া: বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ মূল্যস্ফীতি দেখা যাচ্ছে চীনা ঋণের ভারে জর্জরিত দেশ শ্রীলঙ্কায়। অন্য দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানে ১৩ দশমিক ৮, ভারতে ৭ দশমিক ৭৯, নেপালে ৭ দশমিক ২৮, বাংলাদেশে ৬ দশমিক ২৯, ভুটানে ৫ দশমিক ৫৭, আফগানিস্তানে ১ দশমিক ৫৬ ও মালদ্বীপে ১ দশমিক ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি চলছে।

উন্নত বিশ্ব: সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উন্নত দেশগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ৮ দশমিক ১, নেদারল্যান্ডসে ৯ দশমিক ৬, যুক্তরাজ্যে ৯, যুক্তরাষ্ট্রে ৮ দশমিক ৩, জার্মানিতে ৭ দশমিক ৯, কানাডায় ৬ দশমিক ৮, সুইডেনে ৬ দশমিক ৪, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৫ দশমিক ৪, ফ্রান্সে ৫ দশমিক ২, সুইজারল্যান্ডে ২ দশমিক ৯ ও জাপানে ২ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি চলছে।

উন্নয়নশীল কিছু দেশ: উল্লেখযোগ্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে এখন রাশিয়ায় ১৭ দশমিক ৮, ব্রাজিলে ১২ দশমিক ১৩, মালয়েশিয়ায় ২ দশমিক ৩ ও চীনে ২ দশমিক ১ শতাংশ মূল্যস্ফীতি চলছে।

বিবিসি, ট্রেডইকোনমিকস ডটকম ও বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

Share This Article