পানি উঠছে না শৈলকুপার কয়েক হাজার টিউবওয়েলে

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ বিকাল ০৪:০১, রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৩, ২৬ চৈত্র ১৪৩০

শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পানির সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলায় ৬ হাজার ৫০টির বেশি টিউবওয়েল থাকলেও প্রায় ৪ হাজার টিউবওয়েল অকেজো হওয়ার উপক্রম। এসব টিউবওয়েলে পর্যাপ্ত পানি না ওঠায় চরম দুর্ভোগে আছে উপজেলার কমপক্ষে ১০ হাজার পরিবার।

সরকারিভাবে উপজেলায় ৫০০ সাবমারসিবল পানির পাম্প আছে। পানির সংকট কাটাতে কেউ কেউ বাড়িতে নতুন করে সাবমারসিবল পাম্প বসিয়ে পানি তোলার চেষ্টা করছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভেদে পানির স্তর ২৮ থেকে ৩০ ফুট থাকলেও বর্তমানে পানির স্তর আরও নিচে নেমে গেছে বলে জানিয়েছে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস।

গতকাল শনিবার উপজেলার পৌর এলাকার আউশিয়া, মাঠপাড়া, হাসনাভিটা, বালিয়াডাংগা, চতুড়া, ঝাউদিয়া, সারুটিয়া ইউনিয়নের নাদপাড়া, ভাটবাড়ি, কাতলাগাড়ি, নবগ্রাম, চরবাখরবা, কাচেরকোল ইউনিয়নের কচুয়া, হামদামপুর, কাঁচেরকোল, দিগনগর ইউনিয়নের তমালতলা, সিদ্দি, দেবতলা, অচিন্তপুর, বেণীপুর,হড়রা, উমেদপুর ইউনিয়নের বারইপাড়া, ব্রাহিমপুর, বিএলকে, রয়েড়া,আবাইপুর ইউনিয়নের হাটফাজিলপুর, রুপদা, ব্যাসপুর, কাকুড়িয়াডাংগা, মীনগ্রাম, বগুড়া ইউনিয়নের শীতালী, দলিলপুর, আওদা, কামান্না, নাগিরাটসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে টিউবওয়েলে পানি না ওঠার কারণে পুকুরের পানি দিয়েই চলছে গ্রামবাসীর দৈনন্দিন কার্যক্রম।

সামর্থবান অনেকে টিউবওয়েলে পানি না পেয়ে সাবমারসিবল পাম্পের মাধ্যমে পানি তোলার ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু সেখানেও দেখা গেছে লম্বা লাইন। টিউবওয়েল থেকে পানি ওঠানোর জন্য নতুন করে মাটি খোড়াসহ নানা কৌশল অবলম্বন করেছে। তবুও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না এলাকাবাসী। যে কারণে এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

পৌর এলাকার চতুড়া গ্রামের বাসিন্দা আ. রহিম বলেন, ‌‘এলাকায় পানির সংকট। পানি কিনে খাওয়া আমাদের মতো অল্প আয়ের মানুষের সম্ভব না। বর্তমানে আমরা হাজার হাজার মানুষ চরম পানি সংকটে পড়েছি। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।’

উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হেলাল বিশ্বাস বলেন, ‘আমার নিজের বাড়ির টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। আমার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে টিউবওয়েলে পানি না উঠায় হাজার হাজার মানুষ তীব্র পানি সংকটে পড়েছে।’

শৈলকুপা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. আসিফ আলম পানি সংকটের সত্যতা স্বীকার করে জানান, পানির স্তর শুষ্ক মৌসুমে নিচে নামার কারণে টিউবওয়েলে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে পানি সংকট দেখা দিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে স্পেশাল প্রকল্প নিয়ে পানি সমস্যার সমাধান করতে হবে। পানি সরবরাহ অথবা টিউবওয়েল স্থাপনে কারিগরি সহায়তার প্রয়োজন হলে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস সহযোগিতা করবে।

বিষয়ঃ বাংলাদেশ

Share This Article