আহমদিয়াদের ওপর হামলার পরই কাটা হলো ইমামের জিহ্বা: কিসের ইঙ্গিত?

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ রাত ০৮:২৯, মঙ্গলবার, ৭ মার্চ, ২০২৩, ২২ ফাল্গুন ১৪২৯

আহমদিয়া তথা কাদিয়ানি নিয়ে বিশ্বের অনেক দেশেই রয়েছে বিরোধ। বাংলাদেশেও তাদের আকিদা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। এজন্য বারবারই আক্রমণের শিকার হন এই সম্প্রদায়ের লোকজন। সম্প্রতি তাদের বার্ষিক 'সালানা জলসা' নিয়ে ফের উত্তপ্ত হয় পঞ্চগড়। বাড়িঘরে চালানো হয় হামলা-অগ্নিসংযোগ। প্রাণও হারিয়েছেন দুজন।তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন। এ ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও দাবি তাদের।

শুধু আহমদিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর হামলাই নয়, ৪ মার্চ রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এক ইসলামি বক্তার জিহ্বা কেটে দেয়া হয়েছে। শিয়া অনুসারীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ায় এমন হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি জায়গায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা যায়।

একদিন আগে-পরের বা কাছাকাছি সময়ে এসব অপ্রীতিকর ঘটনা জনমনে শঙ্কা সৃষ্টির পাশাপাশি এসব ঘটনার পেছনে কোন অশুভ চক্রের অসৎ উদ্যেশ্য রয়েছে কিনা সে বিষয়ে তৈরি হয়েছে নানান সন্দেহ। তবে নির্বাচনী বছর হওয়ায় দেশের পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তির ইশারায় এসব অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে পারে বলে দাবি করছেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুশীল সমাজের একজন আলোচিত টকশো ব্যক্তিত্ব জানিয়েছেন, প্রতিবার জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই দেশে খুন, রাহাজানি,সংখ্যালঘু বা বিশেষ কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর হামলার মত ঘটনা বেড়ে যায়।আর এসব ঘটনার পেছনে বেশিরভাগই ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক  কারণ বা উদ্যেশ্য থাকে।অতীতে এ ধরণের যত ঘটনা ঘটেছে প্রায় সবগুলোর পেছনেই বিশেষ একটি সরকারবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির যোগসূত্র প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পেছনেও তারাই জড়িত।নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই নির্বাচনে না যেয়ে নির্বাচন বানচালের হুমকিধামকি যারা দেয় তারাই মূলত নির্বাচনের বছরকে টার্গেট করে  দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টায় এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।

তিনি বলেন,  ধর্ম একটি স্পর্শকাতর ইস্যু।এটিকে ব্যবহার করে, বিভ্রান্তি বা গুজব ছড়িয়ে খুব দ্রুত যেকোনো বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানো যায়, যেমনটি ঘটেছে পঞ্চগড়ের ঘটনায়। সেখানে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে পঞ্চগড় পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলে রাব্বিও রয়েছেন। তিনিই প্রথম আহমদিয়াদের নিয়ে গুজব ছড়ান। আহমদিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন দুই মুসুল্লিকে গলা কেটে হত্যা করেছে’ এমন গুজব ছড়িয়ে শহরে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তারা।আর গুজবে কান দিয়েই আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালায় তারা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্মীয় উস্কানির ফাঁদে দেশে এধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও তার দায়  সরকারের ওপরই পড়ে।সরকার বিব্রত হয়।জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সরকারের ওপর এক ধরণের চাপ সৃষ্টি হয়।আর এ সুযোগটিই নিতে চায় সরকারবিরোধী শক্তি। ২০১৩-১৪ সালেও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল তারা।এবারও এমন আরও অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটতে পারে।তাই সরকারের উচিত এ বিষয়ে কৌশলী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা

বিষয়ঃ বাংলাদেশ

Share This Article