ভারতের কোন বাঁধের জন্য সিলেটে বন্যা !

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ রাত ০৮:৫৯, সোমবার, ২০ জুন, ২০২২, ৬ আষাঢ় ১৪২৯

সিলেটের  ভয়াবহ বিপর্যয়ের জন্য অনেকে ভারতের ফারাক্কা বাঁধ, টিপাইমুখ বাঁধ ও তিস্তা বাঁধকে দায়ী করছেন। সোশাল মিডিয়াতে বিভিন্ন ভিডিও ব্যাপকাভাবে শেয়ার করা হচ্ছে এই বলে যে, টিপাইমুখ বাঁধের ১১টি গেট নাকি খুলেও দেয়া হয়েছে।আসুন জেনে নেই আসল তথ্য।

টিপাইমুখ :
যে টিপাইমুখ বাঁধের কথা বলা হচ্ছে তার সাথে এই সিলেটের আকস্মিক বন্যার কোন সম্পর্ক নেই। কারণ টিপাইমুখ বাঁধ এখনো নির্মিতই হয়নি। মূলত ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পানির অধিকার নিয়ে অমীমাংসিত কিছু বিষয়ের কারণেই বাধটি এখনো নির্মান হয়নি। যে বাঁধই নির্মাণ হয়নি সেই বাঁধ বা তার ১১ টি গেট খুলে দেয়া যায়কি?

ফারাক্কা :
প্রথমত, ফারাক্কা বাঁধের সঙ্গে সিলেট অঞ্চলের কোন সংযোগই নেই। ফারাক্কা বাঁধ গঙ্গা নদীর উপর অবস্থিত একটি বাঁধ। ফারাক্কা বাঁধ খুলে দিলে ভৌগলিক কারণে সবার আগে প্লাবিত হবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা ও নাটোরের নিম্নাঞ্চল। কোনোভাবেই সিলেট ও নেত্রকোনা-কিশোরগঞ্জের ভাটি অঞ্চলে প্লাবিত হবে না।

তিস্তা বাধ:
একটু ম্যাপের দিকে দৃষ্টি দিলেই দেখবেন, তিস্তা বাঁধের কারণে যদি বন্যা হয় তবে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রাম সবার আগে প্লাবিত হবে। সিলেটে সাম্প্রতিক যে বন্যা হচ্ছে সেখানে এই তিস্তা বাঁধের প্রসঙ্গ আনাটাই হাস্যকর।

কেন সিলেটের বন্যা

এবার আসা যাক সিলেটের সাম্প্রতিক বন্যার মূল কারণসমূহের দিকে। সিলেট ও সুনামগঞ্জে আকস্মিক বন্যার পেছনে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে সেটাই মূলত দায়ী। এবং এই চেরাপুঞ্জিতে কোন বাঁধ  নেই।

চেরাপুঞ্জিতে যে বৃষ্টি হয়েছে তা এ যাবৎকালের তৃতীয় সর্বোচ্চ। বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, চেরাপুঞ্জিতে যখন বৃষ্টি হয়, সেটা ছয় থেকে আট ঘণ্টার ভেতরে তাহিরপুরে চলে আসে। কিন্তু সেখানে এসে পানি তো আর দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে তখন সেটা আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে বন্যার তৈরি করছে,'’

এদিকে গত তিনদিন চেরাপুঞ্জিতে যে বৃষ্টিপাত হয়েছে, ২৪৮৭ মিলিমিটার এবং এখনো বৃষ্টি হচ্ছে। এরকম ধারাবাহিক বৃষ্টি হয়েছে ১৯৯৫ সালে একবার, তিনদিনে ২৭৯৮ মিলিমিটার আর ১৯৭৪ সালে ২৭৬০ মিলিমিটার। এরকম খুব কম দেখা গেছে।

এই অতিবৃষ্টির কারণে ভারতের আসামেও বন্যা এবং ভূমিধ্বসের সৃষ্টি হয়েছে। আসামে বরাক ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গুয়াহাটিসহ অনেক এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। আসাম, মেঘালয় মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

সিলেটের বন্যার জন্য কোনভাবেই ফারাক্কা, টিপাইমুখ বা তিস্তা দায়ী না। আকস্মিক এই বন্যা মূলত হয়েছে অতিবৃষ্টির কারণে। দীর্ঘমেয়াদী অনেক কিছু অবশ্য এর জন্য দায়ী।

বিষয়ঃ বাংলাদেশ

Share This Article


জলবায়ু মোকাবিলায় ‘লোকাল অ্যাডাপটেশন চ্যাম্পিয়নস’ অ্যাওয়ার্ড পেলেন প্রধানমন্ত্রী

‘ঈদ স্পেশাল ট্রেন’ চলাচল শুরু আজ

৫ বছরের জন্য নেপালের জলবিদ্যুৎ আমদানি করবে সরকার

১৩ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকার জ্বালানি তেল কিনবে সরকার

কাল থেকে চলবে ঈদ স্পেশাল ট্রেন

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি তৈরি করে দেব : প্রধানমন্ত্রী

আশা যোগাচ্ছে নেপালের বিদ্যুৎ

সাড়ে ১৮ হাজার পরিবার পাচ্ছে জমিসহ সেমিপাকা ঘর

‘কারুরত্ন’ হয়েছেন ঝিনাইদহের গোপেন্দ্র নাথ

সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশকে সহায়তা দিচ্ছে এডিবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর সাক্ষাৎ

আমাদের গাফিলতি ছিল কি না তা দেখবো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী