জলবায়ু পরিবর্তনে দেশে তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে : গবেষণা

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ রাত ০৮:৫০, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০

বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুমে তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। বর্ষা আসছে দেরিতে, যাচ্ছেও দেরিতে। দেশে তাপপ্রবাহের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আবার শীতের মধ্যেও তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা দেখছি।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নানা প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুমে তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। বর্ষা আসছে দেরিতে, যাচ্ছেও দেরিতে। দেশে তাপপ্রবাহের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আবার শীতের মধ্যেও তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা দেখছি।

২৭ ফেব্রুয়ারি আবহাওয়া অধিদপ্তর আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল জলবায়ু : আবহাওয়ার পর্যবেক্ষণে ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সালের প্রবণতা এবং পরিবর্তন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান।

গত ৪৩ বছরের আবহাওয়ার নানা পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এ গবেষণায়। এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিস্থিতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ ও নরওয়ের আরও পাঁচজন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ। বছরের ৪টি সময় ধরে এসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো— শীতকাল (ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি), প্রাক্‌-বর্ষা (মার্চ, এপ্রিল ও মে) বর্ষা (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) এবং বর্ষা-পরবর্তী (অক্টোবর ও নভেম্বর)।

গবেষণার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া দেখা যাচ্ছে দেশে। বর্ষা আসার সময় পাল্টেছে। বিলম্ব হচ্ছে চলে যেতেও। শুধু বর্ষা নয়, শীত বা গ্রীষ্মেও বেড়ে যাচ্ছে তাপ। মেঘাচ্ছন্ন দিনের পরিমাণ বাড়ছে। তাতে শীতের দিন তাপ বাড়লেও শীতের তীব্রতার অনুভূতি হচ্ছে বেশি মাত্রায়। এর সঙ্গে বাড়ছে বায়ুদূষণ।

তিনি আরও বলেন, নরওয়ের সরকার ১৩ বছর ধরে আবহাওয়াসংক্রান্ত গবেষণায় বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরকে সহায়তা করছে। আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রবণতা বুঝতে সেই সহায়তা খুব কার্যকর হয়েছে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এসপেন রিক্টার সেভেন্ডসন বলেন, আমাদের একটাই পৃথিবী। জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব থেকে আমরা কেউ মুক্ত থাকতে পারব না। বাংলাদেশ বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে কার্যকর বৈজ্ঞানিক গবেষণা, তথ্য-উপাত্তের ব্যবহার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হবে।

গবেষণায় তাপমাত্রার পরিবর্তন বুঝতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩৫টি স্টেশনের ১৯৮০ থেকে ২০২০ সালের প্রতিদিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দেখা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ঋতুতে তাপমাত্রার পরিবর্তনের দিকটি উঠে এসেছে। দেখা যাচ্ছে, ক্রমেই জলবায়ু পরিস্থিতি উষ্ণ হচ্ছে। সব ঋতুতেই তাপমাত্রা আগের চেয়ে বাড়ছে।

ঢাকার তাপমাত্রার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ৪০ বছরে দেখা গেছে প্রাক্‌-বর্ষা, বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী—তিন সময়েই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ৯, শূন্য দশমিক ৩৩ এবং শূন্য দশমিক ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। শুধু শীতকালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমে গেছে শূন্য দশমিক ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে ৪টি কালেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বেড়েছে।

এ ছাড়াও ঢাকাসহ আট বিভাগেই বর্ষাকালে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বেড়েছে। এর মধ্যে খরাপ্রবণ রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়েছে, শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃষ্টিবহুল সিলেটেও এ সময় তাপমাত্রা বেড়েছে একই রকম মাত্রায়। ঢাকা, রংপুর ও চট্টগ্রামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির এ হার ছিল শূন্য দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

Share This Article


যেভাবে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত এমভি আব্দুল্লাহর ২৩ নাবিককে দেশে আনা হবে

বিএনপি বাংলাদেশের অস্তিত্বের মূলে আঘাত করতে চায় : ওবায়দুল কাদের

পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

কারো যেন ডেঙ্গু না হয় সেজন্য সবাইকে কাজ করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ইরানে কখন হামলা করা হবে জানাল ইসরায়েল

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট: ভোগান্তি ছাড়াই কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ

শিক্ষা হতে হবে আদর্শভিত্তিক: ভূমিমন্ত্রী

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় আরও ৮৯ জনের মৃত্যু

দিনে আসছে হাজার কো‌টি টাকার রেমিট্যান্স

চিকিৎসক দিনে কতজন রোগী দেখতে পারবেন, আইন করবে সরকার

ঈদযাত্রায় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটেও হাউসফুল

রমজানে সুলভ মূল্যে দুধ-ডিম ও মাংস পেল প্রায় ৬ লক্ষ মানুষ