বঙ্গবন্ধুর 'রাষ্ট্রভাষা দিবস' ঘোষণায় যেভাবে '২১' হয়ে উঠলো ইতিহাস

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সকাল ০৬:৫৮, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০

ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি রাজবন্দি হিসেবে জেলে থাকলেও কৌশলে কার্যকরী  ভূমিকা রেখেছিলেন।একুশে ফেব্রুয়ারিকে রাষ্ট্রভাষা দিবস পালনের আহবান জানিয়েছিলেন তিনি।  পরবর্তীতে ইতিহাসের পাতায় এই দিনটি হয়ে ওঠে অমর ২১শে ফেব্রুয়ারী।

 

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা’ এমন প্রস্তাব পাকিস্তানের গণপরিষদে পাস হলে ওই দিনই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তৎকালীন ছাত্রনেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘বাংলা পাকিস্তানের শতকরা ছাপ্পান্ন ভাগ লোকের মাতৃভাষা। তাই বাংলাই একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হওয়া উচিত।’ সেদিন ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ’র ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পালিত হয় সাধারণ ধর্মঘট। ধীরে ধীরে রূপ নেয় ছাত্র আন্দোলনে। এই আন্দোলনেই গ্রেফতার হন শেখ মুজিবুর রহমান, অলি আহাদসহ ৭০-৭৫ জন ছাত্র। স্বাধীন পাকিস্তানে এটিই ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রথম গ্রেফতার।

এরপর আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। এরই অংশ হিসেবে ১৯৪৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় এলে সরকারবিরোধী বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে বঙ্গবন্ধুকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়। সেই সময় টানা ২৬ মাস জেলে ছিলেন তিনি।

এরপর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় ১৯৫২ সালের জানুয়ারি থেকে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর খাজা নাজিমুদ্দিন প্রথম ঢাকায় আসেন ২৫ জানুয়ারি। ২৬ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে জনসভায় তিনি ঘোষণা করেন, ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।’ তার এ ঘোষণার পর ১৯৪৮ সালের চেয়েও ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়।

অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন জেলে বন্দি থাকা শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর হাসপাতাল থেকেই গোপনে সভা করে তিনি জানিয়ে দেন একুশে ফেব্রুয়ারি 'রাষ্ট্রভাষা দিবস' পালন করা হবে। একই সঙ্গে হরতাল ও অ্যাসেম্বলি ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হবে।

এদিকে দীর্ঘ কারাবাস থেকে মুক্তির জন্য পয়লা ফেব্রুয়ারি সরকারের কাছে আবেদন করেন শেখ মুজিবুর রহমান। এমনকি ‘১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মুক্তি না দিলে ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে জেলের ভেতরই অনশন ধর্মঘট করার কথাও জানান তিনি। এর মধ্যেই ২০ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা জারি করে এক মাস ঢাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। এ খবর প্রচারিত হয় ঢাকা বেতারেও।

এ খবর প্রচারিত হওয়ার পরই ‘১৪৪ ধারা মানব না, মানব না’ স্লোগানে সহস্র কণ্ঠ গর্জে ওঠেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে সিদ্ধান্ত মতে ১০ জন ১০ জন করে মিছিল নিয়ে অ্যাসেম্বলি ভবনের দিকে যেতে থাকেন। কিন্তু তাদের ওপর আক্রমণ চালায় পুলিশ। বাধ্য হয়ে ছাত্ররাও ইট পাটকেল ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে চলে গোলাগুলি। এতে ঘটনাস্থলেই রফিকউদ্দিন, আব্দুল জব্বার শহীদ হন। গুরুতর আহত হন আরো ১৭ জন। রাতে আবুল বরকতও মারা যান।

এদিকে গুলি চালানোর সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকাসহ সারা দেশের পরিস্থিতি পাল্টে যায়। সর্বস্তরের মানুষসহ অফিস-আদালতের কর্মচারীরা অফিস বর্জন করে বেরিয়ে আসেন। এরপর থেকেই দিনটি 'রাষ্ট্রভাষা দিবস' হিসেবে পালন করে আসছে বাঙালি জাতি।

Share This Article


প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

আগামী সপ্তাহে থাইল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

৯৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ: আবেদন যেভাবে

গরম নিয়ে যে দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস

‘৮ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল’

গরমে গতি কমিয়ে ট্রেন চালানোর নির্দেশ

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

তৃতীয় ধাপে ১১২ উপজেলায় ভোট ২৯ মে

২১ নাবিক জাহাজে, ২ জন দেশে আসবেন বিমানে

বাজেটে থোক বরাদ্দের প্রস্তাব না করতে নির্দেশনা

প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব ও গাম্বিয়া সফর বাতিল

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন ১৭ এপ্রিল