একজন জয় ও ডিজিটাল বাংলাদেশ

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ রাত ০১:০১, বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০২২, ১২ শ্রাবণ ১৪২৯

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই ঢাকায় জন্ম গ্রহণ করেন পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদমিয়া ও শেখ হাসিনা দম্পতির সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়। ২০২২ সালের ২৭ জুলাই পূর্ণ হল তার জীবনের ৫১ বছর। মা প্রধানমন্ত্রী, বাবা বিজ্ঞানী এবং নানা বাংলাদেশের স্থপতি হলেও জীবনটা সহজ ছিলো না তার।  

জয়ের যখন মাত্র ৪ বছর বয়স, তখনই বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়। মায়ের সঙ্গে বিভিন্ন দেশে গোপন আশ্রয়ে থাকতে হয়েছে তাকে। পড়াশোনা করতে হয়েছে নিজের টাকায়। তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে ভারতে আত্মগোপনে থেকে। 
তবে সকল বাধাবিপত্তি পেরিয়ে সজিব ওয়াজেদ জয় আজ ডিজিটাল বাংলাদেশের রুপকার।  

একটা সময় ছিলো যখন হাতেগোনা কিছু মানুষের কম্পিউটার কেনার সামর্থ ছিলো। কিন্তু হাতেগোনা মানুষ দিয়ে তো আর ডিজিটাল প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব না। ১৯৯৬ সালেই এটি অনুধাবন করেছিলেন সজিব ওয়াজেদ জয়।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণ করলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে কম্পিউটারের উপর থেকে কর তুলে নেয়া হয়। এর ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতারে মধ্যে চলে আসে কম্পিউটার। তরুণদের বিশাল অংশ ধীরে ধীরে কম্পিটারে দক্ষ হয়ে ওঠে।

কিন্তু দেশের অবকাঠামো তখনও ছিলো প্রাচীন সনাতনী পদ্ধতির। তাই সজিব ওয়াজেদ জয় অনুধাবন কলেন, দেশের অবকাঠামোকে যদি ডিজিটালাইজড না করা হয় তাহলে এই প্রজন্মকে কোন কাজে লাগানো যাবে না।

তাই ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে  ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা তিনিই যুক্ত  করেছিলেন। যা মন কেড়েছিলো তরুণপ্রজন্মের।ধারনা করা হয়, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার পেছনে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এর ধারনা ব্যপক প্রভাব বিস্তার করেছিলো।  

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা হন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর পেছনে থেকে তিনিই বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে ডিজিটালাইজড করার কাজটি করতে থাকেন।

তার ধারাবাহিক পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতিটি মন্ত্রনালয়ের দাপ্তরিক কাজ ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। এখন সরকারী সেবা সংস্থাগুলোর সকল কাজ অনলাইনের মাধ্যমেই করা সম্ভব। জমির নামজারি থেকে শুরু করে ট্রেনের টিকিট পর্যন্ত এখন  অনলাইনে করা সম্ভব। 
শুধু তাই নয় আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার রেমিটেন্স আসছে দেশে।    

সরকারের বিভিন্ন নীতি সহায়তার ফলে বর্তমানে দেশে হাই-টেক পার্কসহ বিভিন্ন স্থানে স্যামসাং, ওয়ালটন, সিম্ফোনি, মাই ফোন, শাওমিসহ দেশি-বিদেশি ১৪টি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ উৎপাদন করছে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তা রপ্তানি হচ্ছে ও দেশের মোবাইল ফোন চাহিদার ৭০ শতাংশ পূরণ করছে।

দেশের সব মানুষের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও বিকাশ, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তোলার ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এসব কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নের জন্য আইন, নীতিমালা প্রণয়ন থেকে শুরু করে সামগ্রিক কার্যক্রমের পরামর্শ ও তদারকি করছেন ডিজিটাল বাংলাদেশের আর্কিটেক্ট প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

জনগণের দোরগোড়ায় সহজে, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৪৫০১টি ইউনিয়নে একযোগে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র উদ্বোধন করেন, যা বর্তমানে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) নামে সুপরিচিত। এই সেন্টার থেকে গ্রামীণ জনপদের মানুষ খুব সহজেই তাদের বাড়ির কাছে পরিচিত পরিবেশে জীবন ও জীবিকাভিত্তিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন।

বর্তমানে সারা দেশে ৮,২৮০টি ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে ৩০০-এর অধিক ধরনের সরকারি-বেসরকারি সেবা জনগণ গ্রহণ করতে পারছেন। মানুষ এখন বিশ্বাস করে, ঘরের কাছেই সব ধরনের সেবা পাওয়া সম্ভব। মানুষের এ বিশ্বাস অর্জন ডিজিটাল বাংলাদেশের পথচলায় সবচেয়ে বড় পাওয়া। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সুফল দেশের প্রত্যেক মানুষ পাচ্ছে।

Share This Article


শেখ হাসিনা ও নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শংকরের সাক্ষাৎ

কেউ যেন দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিতে না পারে

দেশকে নিয়ে কেউ যেন ষড়যন্ত্র করতে না পারে: শেখ হাসিনা

অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধে বিশ্ব নেতাদের আহ্বান শেখ হাসিনার

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উইমেন পলিটিক্যাল লিডারস সভাপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ

মিয়ানমার থেকে অস্ত্র নিয়ে কেউ ঢুকতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ময়মনসিংহে বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৭

জার্মানি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

বিজিপিসহ মিয়ানমারের ৩৩০ জনকে হস্তান্তর করল বিজিবি

আজ জার্মা‌নি সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

পাচার হওয়া টাকা উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ