ডয়েচে ভেলে’র ‘ডেথ স্কোয়াড’ প্রতিবেদন, প্রশ্নবিদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র !

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ রাত ০৮:৪৪, রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৩, ২৬ চৈত্র ১৪৩০

সম্প্রতি র্যাপিড এ্যাকশন বাটালিয়ান র্যাব নিয়ে ‘ডেথ স্কোয়াড র্যাবের ভিতরের কথা’ শিরোনামে একটি তথ্য চিত্র প্রকাশ করেছে জার্মান ভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে। যদিও এই প্রতিবেদন ভিত্তিহীন বলে সাথে সাথেই উড়িয়ে দিয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। অন্যদিকে ডয়েচে ভেলের এই প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা সাবধানতার সাথে খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস গত ৭ এপ্রিল ডয়েচে ভেলে’র তথ্যচিত্রটি তাদের ফেসবুক পেজে বাংলা ও ইংরেজিভার্সনে শেয়ারও করেছে।

ডয়েচে ভেলে’র প্রতিবেদনকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের অতি আগ্রহী আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, রাজনৈতিক সংগঠনের মতোই মাঠে নেমেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। এর পেছনে বেশ কিছু যুক্তিও তুলে ধরেছেন তারা।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, নেত্র নিউজের সম্পাদক তাসনিম খলিল নামে যে ব্যক্তির সহায়তায় প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে তার অতীত কর্মকাণ্ড বেশ বিতর্কিত। নেত্র নিউজ আবার পরিচালিত হয় ন্যাশনাল এনডোমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি-এনইডি নামের একটি মার্কিন সংস্থার অর্থায়নে। যে কারণে তাসনিম খলিলের দেওয়া সংবাদ ও ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক সংগঠনের মতো আচরণে দেশবিরোধী দূরবীসন্ধি রয়েছে।

এ বিষয়ে ইউএনবি সম্পাদক ফরিদ হোসেন বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতীত আচরণ সবাই জানে। যেই দেশগুলোর সরকার ব্যবস্থা তাদের অপছন্দের হয় কিংবা মতের অমিল হয়  সেই সরকারকে কিভাবে হটাতে হয় সেটা তারা ভালো করেই জানে।

তিনি বলেন, র্যাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে কথা বলছে এটার পেছনে একটা উদ্দেশ্য রয়েছে। র্যাবের বড় যে মূল দায়িত্ব সেটা হলো সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন এবং র্যাব সেখানে ভালো করেছে। আর এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব স্বীকারও করে। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিট্রেনের সহায়তায় র্যাব সৃষ্টি হয়েছিল।

এখন নেত্র নিউজ বলেন বা যুক্তরাষ্ট্রেরে প্রতিনিধি ডেভিট বার্গম্যান বলেন তারা কিন্তু বিশেষ একটি মহলের স্বার্থে কাজ করছেন। যেটাকে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড বলতে পারি। এই চক্রের সাথে তারাও যুক্ত রয়েছে বলে সন্দেহ করলে অতিরিক্ত কিছু বলা হবে না বলেও জানান তিনি।

কে এই তাসনিম খলিল:

বিদেশে বসে সরকারবিরোধী নানা কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাসনিম খলিলের বিরুদ্ধে মামলা হয় ২০২১ সালে। মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজকে নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়। মূলত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরার ‘অল দ্য প্রাইম মিনিষ্টার ম্যান' শীর্ষক যে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সেখানেও যুক্ত ছিলেন তাসনিম খলিল। সব শেষ র্যাবকে নিয়ে ডয়েচে ভেলে’র প্রতিবেদন মূলত তাসনিম খলিলের গণমাধ্যম নেত্র নিউজের সহায়তায় বানানো। আর একে ভুলে ভরা তথ্য বলছে বিশ্লেষকরা।

এই প্রসঙ্গে একজন সিনিয়র সম্পাদক বলেন, সাংবাদিকতা করার একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। এখানে টিম ইনভেস্টিগেশন, সরেজমিনে গিয়ে মানুষের সাথে কথা বলা, নানা ধাপের চেকিং, ক্রস চেকিং ইত্যাদি। এখন অনেকে আউট সোর্সিংয়ের উপর নির্ভর্শীল। অর্থাৎ নিজে মাঠে না গিয়ে কিছু টাকার বিনিময়ে অন্য কোনো লোক কিংবা প্রতিষ্ঠান কন্ট্রাক্ট দিয়ে দেওয়া হয়। তাদের মাধ্যমে তথ্য নিয়ে সেই তথ্যকে সঠিক মনে করা। এখানে ঐ কন্ট্রাক্টধারী ব্যক্তি সঠিক নিয়ম অনুসরণ করলো কিনা সে নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নেই। আর এটাই প্রতিনিয়ত করে চলেছেন তাসনিম খলিলসহ নিযুক্ত প্রতিনিধিরা।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি সংস্থা ন্যাশনাল এনডোমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি এনইডি। এই সংস্থাটির সম্পর্কে দ্য ইউএস ইন্টিলিজেন্স কমিনিউটি বইয়ে বিখ্যাত মার্কিন গোয়েন্দা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রিচার্স লেখেন, স্নায়ু যুদ্ধের অবসানের পর এবং নাইন ইলেভেনে জঙ্গিরা টুইন টাওয়ারে হামলা চালানোর পর মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ, ব্যুরো অফ ইন্টিলিজেন্স এন্ড রিসার্চ অফ স্ট্রেট ডিপার্টমেন্ট, ডিফেন্স ইন্টিলিজেন্সী, ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির অপারেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে মৌলিক পরিবর্তন ঘটে। তখন গণতন্ত্রকে সমর্থন জানাতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার অর্থায়নে এই এনইডির জন্ম হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার একটি হাতিয়ার এই এনইডি। আর তাদের অর্থায়নেই চলছে নেত্র নিউজ। শুধু তাই নয়, এই নেত্র নিউজেই রয়েছেন ডেভিট বার্গম্যানের মতো বিতর্কিত আইনজীবীও। যিনি যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতাদের রক্ষায় দেশ-বিদেশে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়েছিলেন।

গেয়েন্দা সংস্থা সিআইয়ের মতোই এনইডিকে ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। টাকা দিয়ে এনইডির মাধ্যমে রিপোর্ট করিয়ে আবার সেই রিপোর্টের সূত্র দিয়েই বাংলাদেশকে মানবাধিকারের ছবক দেওয়ার চেষ্টা করছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।

বিষয়ঃ বাংলাদেশ

Share This Article