কে এই জঙ্গি শিখা

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ বিকাল ০৪:৩৩, শনিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৩, ২৫ চৈত্র ১৪৩০

আদালত থেকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ছয় মাস আগে থেকেই করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জেলখানায় এবং বাইরে মূল সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন ফাতিহা তাসনীম শিখা।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শুক্রবার অভিযান চালিয়ে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনার মূল সমন্বয়ক ফাতিয়া তাসনিম শিখা (৩১) ও তার আশ্রয়দাতা হুসনা আক্তার হুসনাকে (২২) গ্রেফতার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। এদের মধ্যে ফাতিয়া তাসনিম শিখা পালিয়ে যাওয়া জঙ্গি আবু সিদ্দিক সোহেলের স্ত্রী।

শনিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি প্রধান মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আদালত চত্বর থেকে ছিনিয়ে নেয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার-আল-ইসলামের দুই সদস্য সদরঘাট হয়ে পালিয়ে গিয়ে ‘আনসার হাউসে’ অবস্থান নেন। তাদের গ্রেফতার করা না গেলেও ঐ দুই জঙ্গি বর্তমানে দেশেই অবস্থান করছে।

কে এই শিখা

ফাতিয়া তাসনিম শিখা ২০১৪ সালে এমআইএসটি থেকে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন। একপর্যায়ে তার ভাই মোজ্জাম্মেল হোসেন ওরফে সাইমনের মাধ্যমে তিনি আনসার আল ইসলামের আদর্শে দীক্ষিত হন। পরবর্তীতে সায়মনের মাধ্যমে আবু সিদ্দিক সোহেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

সোহেল আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার সদস্য ছিলেন। সোহেলের সঙ্গে বিয়ের পর থেকে তিনি আরো গভীরভাবে সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

২০১৭ সালে মুক্তমনা ব্লগার অভিজিত রায়, দিপন ও নীলাদ্রি নিলয় হত্যা মামলার আসামি হিসেবে আবু সিদ্দিক সোহেল গ্রেফতার হন। গ্রেফতারের পর থেকে বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপসের মাধ্যমে শিখা কারাবন্দি সোহেলসহ সংগঠনের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি প্রধান মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, গত ২০ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে পুলিশের চোখে-মুখে স্প্রে করে জঙ্গি সদস্য মইনুল হাসান শামিম ওরফে সিফাত ওরফে সামির ওরফে ইমরান (২৪) ও আবু সিদ্দিক সোহেলকে (৩৪) ছিনিয়ে নেয়া হয়। আনসার আল ইসলামের নেতৃত্ব পর্যায়ের সিদ্ধান্তে দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ১০-১২ জন সদস্য এ জঙ্গি ছিনতাইয়ে অংশ নেয়। চার জঙ্গিকেই ছিনিয়ে নেয়ার পরিরিকল্পনা থাকলেও তারা দুইজনকে ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়। ছিনিয়ে নেয়া দুই জঙ্গিসহ একটি গ্রুপ চলে যায় সদরঘাটে। সেখান থেকে তারা একটি ‘আনসার হাউসে’ গিয়ে অবস্থান নেয়। আনসার আল ইসলামের সেভ হাউসকে সাংগঠনিক ভাষায় আনসার হাউস বলা হয়।

গ্রেফতার শিখা এ জঙ্গি ছিনতাইয়ের মূল সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন উল্লেখ করে সিটিটিসি প্রধান বলেন, ছিনতাইয়ের ছয় মাস আগে তারা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভুয়া এনআইডি ও ভুয়া পরিচয়ে একটি বাড়ি ভাড়া নেয়। নেতৃত্বপর্যায়ে নির্দেশে সংগঠনের আশকারি বিভাগের প্রধান আয়মানের নেতৃত্বে তারা সেখানে মিটিং করে। শিখা ময়মনসিংহ থেকে এসে বৈঠকে অংশ নিতেন।

বৈঠকের সব সিদ্ধান্ত জেলখানায় থাকা জঙ্গি সোহেলকে দিতেন শিখা। স্ত্রী পরিচয়ে দেখা করার সুযোগেই সংগঠনের তথ্য ও তাদের ছিনিয়ে নেয়ার পরিরিকল্পনা তিনি জানাতেন।

ঘটনার আগে ১ নভেম্বর শিখা, আয়মানসহ ছিনতাই অপারেশনে অংশ নেয়া প্রত্যেকে আদালত প্রাঙ্গণে এসে পুরো এলাকা রেকি করেন। তারা কোন পথে পালাবেন, ছিনতাইয়ে ব্যর্থ হলে কী করবেন সেসব পুরো এলাকা রেকি করে নির্ধারণ করেন। ২০ নভেম্বর ঘটনার দিন আয়মান ও শিখা ঘটনাস্থলে থেকে পুরো ছিনতাই ঘটনা মনিটরিং করেন। ছিনতাই হওয়া দুই জঙ্গিকে নিয়ে প্রথমে সদরঘাট যায়। সেখান থেকে তারা পূর্ব নির্ধারিত আনসার হাউসে গিয়ে অবস্থান নেয়। আয়মান ও শিখাসহ বাকিরা অন্যপথে গিয়ে সেই আনসার হাউসে গিয়ে মিলিত হয়।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শুক্রবার (৭ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ থেকে শিখার আশ্রয়দাতা হুসনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গভীর রাতে রূপগঞ্জের একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। কিন্তু সেখানে দুই জঙ্গিকে পাওয়া যায়নি। তবে আমরা সেখান থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, পলাতক দুই জঙ্গি দেশেই আছে। আশা করছি শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

বিষয়ঃ বাংলাদেশ

Share This Article