ব্যালট বাক্সে ভোট: নির্বাচনে আসার অপেক্ষায় বিএনপি!

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সন্ধ্যা ০৭:০৪, বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৩, ২৩ চৈত্র ১৪৩০

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনেই ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। ৩ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনের ১৭তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সাধুবাদ জানালেও বিএনপি নেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভক্তি। দলটির একটি পক্ষ বলছে সরকারের সিদ্ধান্তটি যথার্থ হয়েছে আর আরেকটি পক্ষ বলছে সরকারের নতুন কূটকৌশল ব্যালটে নির্বাচন। তবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।কেননা তারা এটিকে তাদের আন্দোলনের বিজয়ের অংশ হিসেবেই দেখছে।

সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির নেতাকর্মীরা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম-এ ভোটগ্রহণ নিয়ে বিরোধিতা করে আসছিলেন। একই সঙ্গে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট নেয়ারও দাবি তুলেছেন। অবশেষে ব্যালটের মাধ্যমেই হচ্ছে আগামী নির্বাচন। এ খবরে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বেশ খুশি হয়েছেন। এমনকি সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ারও প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের হাইকমান্ড।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এটি ভালো যে, ইভিএমে নির্বাচন করবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এখন যাতে মানুষ তার নিজের ভোট নিজে অবাধে দিতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ভোট চাই।’

নির্বাচন কমিশনের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, ইভিএমে নির্বাচনে সরাসরি জালিয়াতি করার সুযোগ থাকে। তবে ব্যালটে জালিয়াতির সুযোগ কম থাকে। এতে মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ থাকে।

অপরদিকে, উল্লিখিত ঘোষণা সরকারের নতুন কূটকৌশল বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ইভিএমে না অন্য কোনো উপায়ে সরকার ভোট চুরি করবেন, সেটা নিয়ে তারা এখন ভাবছে। সেটা তারা ভাবতে থাকুক। আমরা কোনোভাবেই এ সরকারের অধীনে নির্বাচনেই যাচ্ছি না।

তবে বিএনপির একটি পক্ষ বলছে, ইভিএমে কারচুপি হয় কিন্তু ব্যালটে তা সম্ভব নয়। নির্বাচনে আসতে দীর্ঘদিন বিএনপি একটা সুযোগ খুঁজেছিলো। এখন নির্বাচন কমিশন যেহেতু  ইভিএমের অনড় সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ব্যালটে নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে, এমতবস্থায় বিএনপির উচিত আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা। এই সুযোগটি লুফে নেওয়াই বিএনপির সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।

সমালোচকরা বলছেন, বিএনপি এতদিন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে ইভিএম থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছিলো, ইভিএমে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না, ব্যালটে সুষ্ঠ হয়। বিএনপির অন্যতম প্রধান দাবিও ছিলো এটি। ইভিএম মেশিন ক্রয়ে সমস্যার কারণ দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন  যেহেতু  ইভিএমের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে তখন বিএনপির এই সুযোগটি নেওয়া উচিত। কারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে জনপ্রিয়তা হ্রাস পায় এটি বিএনপি ইতোমধ্যে টের পাচ্ছে।কাজেই আশা করা যায় বিএনপি এই সুযোগটি কাজে লাগাবে।নইলে ভবিষ্যতে সুযোগ হাত ছাড়া করার চড়া মূল্য দিতে হতে পারে।

বিষয়ঃ বিএনপি

Share This Article


আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের: হার্ড লাইনে যেতে পারে সরকার!

কোটা আন্দোলনের নেতা রাফি: বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন মুক্তিযোদ্ধা কোটায়

সংবিধানের কোন ধারা বলে কোটা: বাতিল করলে তাদের কী হবে?

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে তিস্তা নিয়ে কেন আলোচনা হলো না?

চীন থেকে কি নিয়ে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম চর্চা ও প্রচারণায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাফল্য ঈর্ষণীয়, তবু কেন অপপ্রচার?

কোটা সংস্কার আন্দোলন:শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক জয়, তবু কেন কর্মসূচি?

রাজধানীর মোড়ে মোড়ে অবরোধ, পথে পথে ভোগান্তি

কোটা আন্দোলনের নাটাই শিবিরের হাতে: রাজপথ দখল করে নামাজ ও দলীয় সংগীত!

সক্রিয় মৌসুমি বায়ু, অতি ভারী বৃষ্টির আভাস

কোটা আন্দোলন: সুখবর দিলো উচ্চ আদালত, তবু শিক্ষার্থীদের প্রত্যাখ্যান!

কোটা বাতিলের পক্ষে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে সরকারই!