ত্যাগীদের মূল্যায়ন: জরিপের ভিত্তিতেই আওয়ামী লীগে মনোনয়ন!

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ বিকাল ০৩:১৫, শনিবার, ১ এপ্রিল, ২০২৩, ১৮ চৈত্র ১৪৩০

ঘনিয়ে আসছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরইমধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। আগামী নির্বাচনে কারা দলীয় প্রার্থী হবেন তা চূড়ান্তের কাজও শুরু করেছে দলটি। তবে এবার জরিপের ভিত্তিতেই ত্যাগী, যোগ্য এবং দলের দুঃসময়ে যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন তারা মনোনয়ন পাবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।

সম্প্রতি সংসদীয় দলের এক বৈঠকে তিনি এমপিদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জরিপের ভিত্তিতেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হবে। এ সময় তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে হলে জনগণের ঘরে ঘরে, দ্বারে দ্বারে যেতে হবে। জনগণের দ্বারে দ্বারে না গেলে জনগণ ভোট দেবে না। সেজন্য আমিও মনোনয়ন দেবো না। আওয়ামী লীগে জনবিচ্ছিন্ন নেতার প্রয়োজন নেই। আর দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আমার সরকার ও দল ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলছে। এর কোনো ব্যতয় ঘটবে না।’

জানা গেছে, বিদেশি একটি শক্তিশালী জরিপ প্রতিষ্ঠান এবং কয়েকটি দেশীয় গবেষণা ও জরিপ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের কর্মকাণ্ড এবং নির্বাচনী এলাকায় তাদের ভূমিকা জরিপ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও তাদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেয়া হয়েছে। এসব জরিপ এখনও চলমান এবং আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার আগ পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে সব জরিপ রিপোর্ট সমন্বয় করে নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এমপিদের মধ্যে অনেকেই ইতোমধ্যে বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন। তারা নির্বাচনী এলাকায় জনবিচ্ছিন্ন এবং নেতাকর্মীদের দূরে ঠেলে নিজস্ব বলয় বা পারিবারিক বলয় গড়েছেন। কেউ কেউ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়েছেন ও জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। অনেকে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ড করেছেন এবং বিভিন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সূত্রটি বলছে এদের অনেকেই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিট পাচ্ছেন না।

এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের চলতি মেয়াদের গত কয়েক বছরের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বেশ কিছু সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দেয়া, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। অনেকের বিষয়ে  দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্ত হয়েছে বা হচ্ছে। বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে পুরো জাতির বিরাগভাজনও হয়েছেন কেউ কেউ। এরা ভবিষ্যতে শুধু দলীয় মনোনয়নই নয়, দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদেও থাকতে পারবেন না বলে নিশ্চিত করেছে দলীয় সূত্র।

Share This Article