দুর্বল ও ভুলেভরা তথ্য নিয়ে মার্কিন প্রতিবেদন!

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সন্ধ্যা ০৬:১৯, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৩, ৯ চৈত্র ১৪২৯

২০১৮ সালের বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যে বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরি করেছিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ৪ বছর পর ২০২৩ সালে সেই প্রতিবেদনই প্রকাশ করেছে দেশটি। বিশ্বের ইতিহাসে এটি একটি অদ্ভুত ঘটনা। কারণ গত ৪ বছরে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে বলে যখন মেনে নিচ্ছে ইইউসহ অনেক পশ্চিমা দেশ। তখন এমন প্রতিবেদন বেশ কৌতুহল উদ্রেক করেছে সর্ব মহলে।

উক্ত প্রতিবেদনে যেসব তথ্য দেয়া হয়েছে তার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির কোন সাদৃশ্য লক্ষ করা যাচ্ছে না। প্রথমত রাজনৈতিক সংঘাতের যে তথ্য দেয়া হয়েছে তা পুরোপুরি ভুল। কারণ বিগত কয়েক বছর রাজনৈতিক সংঘাত ছিলো না বললেই চলে।

এই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। অথচ দেশের রাজনৈতিক আলোচনা তর্ক-বিতর্ক পুরোটাই এখন চলছে টিভি টক-শো আর সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদি এমনটাই হতো তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ ঢুকতো না, কেউ পত্রিকা পড়তো না, টিভিও দেখতো না। কিন্তু প্রতিবেদনে এমন কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে র‌্যাবের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুমের ঘটনাও ঘটেছে। অথচ গত তিন বছর এমন কোন অভিযানে অংশ নেয়নি র‌্যাব। প্রশ্ন হচ্ছে, তথ্যের এতো গড়মিলসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করলো কেন?

উত্তরটি হচ্ছে, এই মুহুর্তে বাংলাদেশকে চাপে ফেলার জন্য নতুন কোন ইস্যু নেই যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। বাধ্য হয়ে পুরোন ইস্যুটাই চাঙ্গা করতে হয়েছে। যে কারণে পুরোন তথ্যের সাথে নতুন তথ্যের গড়মিল হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত,  অধিকাংশ মানুষ প্রতিবেদন তৈরির সময় নিয়ে এতো ভাবে না। যুক্তরাষ্ট্র কি বললো এটিকেই বড় করে দেখে। সেই সুযোগে আগামী নির্বাচনের আগে এমন একটি প্রতিবেদন দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা খুব সহজ।আর এই সুযোগটিই নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ২০১৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এই তথ্য কে দিয়েছিলো?  

২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের প্রলয়ঙ্কারী ধংসযজ্ঞ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটি অভিযান চালায়। শুধু শব্দবোমা, হুইসেল আর লাঠিচার্জের মাধ্যমে মুক্ত করে শাপলা চত্ত্বর। যেখানে হত্যাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি।

সূত্রমতে অধিকার নামের একটি মানবাধিকার সংগঠন ৫০ জনকে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলো এবং তাদের একটি তালিকাও প্রকাশ করে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকরি  বাহিনী, কয়েকটি টিভি চ্যানেল ও মানবাধিকার সংগঠন তালিকাটি যাচাই করতে নামে। তদন্ত শেষে দেখা যায় তালিকায় যাদের নাম দেয়া হয়েছে তাদের অনেকেই বেঁচে আছেন, অনেকেই দেশের বাইরে আছেন এবং বাকিদের নাম ঠিকানা অধিকাংশই অসত্য। এ নিয়ে চরম বিতর্কের সম্মুখিন হয় অধিকার নামের সংগঠনটি।

২০১৮ সালে সেই সংগঠনটির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পুনরায় প্রতিবেদন তৈরী করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যেটি বর্তমান নির্বাচনের সময় ব্যবহারের চেষ্টা করছে দেশটি। তবে এই তথ্যগুলো যে এখন বাংলাদেশের জন্য মেয়াদউত্তির্ণ তা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন গনমাধ্যমসহ স্যোশাল মিডিয়ায়ই সমালোচিত হচ্ছে।ফলে যুক্তরাষ্ট্র প্রদত্ত প্রতিবেদনটি   যে উদ্দেশ্য প্রণোদিত তা সহজেই অনুময়।

বিষয়ঃ বাংলাদেশ

Share This Article


জাতীয় পরিচয়পত্র'র পোর্টাল নিয়েও পিনাকীর মিথ্যাচার!

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

ধর্মনিরপেক্ষতার অপব্যাখ্যা করে বিএনপি-জামায়াত উম্মাদনা সৃষ্টি করেছিল: প্রধানমন্ত্রী

জেনারেল আজিজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সেনাবাহিনী: অর্থমন্ত্রী

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা: ভূরাজনীতির শিকার বাংলাদেশ!

বাসায় ফিরেছেন আইনমন্ত্রী

ইউনূসের বিরুদ্ধে সাড়ে ৯ কোটি টাকা অবৈধ ঋণ দেওয়ার অভিযোগ দুদকে

ঘূর্ণিঝড় রেমাল: সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল

ডয়চে ভেলের একপেশে ও পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদনের লক্ষ্য প্রশ্নবিদ্ধ: আইএসপিআর

চট্টগ্রাম এয়ারপোর্টে ৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে ফ্লাইট ওঠা-নামা

ধেয়ে আসছে রেমাল: ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত