রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেবে বিএনপি!

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ দুপুর ০২:৫৮, বুধবার, ২২ মার্চ, ২০২৩, ৮ চৈত্র ১৪২৯

ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশে অবস্থানরত ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে মিয়ানমারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে হুশিঁয়ারি দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। ২০ মার্চ রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনি‌টি‌তে রো‌হিঙ্গা প্রত্যাবসন ইস্যুতে এক আলোচনা সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।  তার এমন হুমকিতে  'কেঁচো খুড়তে সাপ’ বের হওয়ার সাথে তুলনা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

 

তারা বলছেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর স্বাধীনতাকামী সংগঠন এএলএ, এএ ও আরসাসহ একাধিক সংগঠন এমনকি বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদেরও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেয়া হয় বলে মিয়ানমার প্রায়শঃই অভিযোগ করে, যদিও সরকারের তরফ থেকে সবসময়ই তা দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি নেতা হাফিজের এমন আকস্মিক মন্তব্যে সন্দেহের ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। এছাড়া তার এমন মন্তব্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

বিএনপি নেতা হাফিজ একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীল নেতা। তার জায়গা থেকে দলের নামে একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন বক্তব্যের পেছনে  অবশ্যই কোনো কারণ রয়েছে। হয় বিএনপি এমন কাজে পৃষ্ঠপোষকতা করছে, নয়তো রোহিঙ্গা প্রত্যাবসনে সরকার সফল হোক তা তারা চায়না বা বিষয়টি দীর্ঘায়িত করে তা থেকে ফায়দা হাসিল করতে চায় দলটি। নইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ‘রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র ট্রেনিং’ দিয়ে মিয়ানমারে পাঠানো’র মতো প্রকাশ্য হুমকি তিনি  দিতেন না। কেননা এটি আন্তর্জাতিক নীতি বিরোধী বক্তব্য।

জাতিসংঘের ১৯৫১ সালের শরণার্থী সংজ্ঞা অনুযায়ী, যখন বাধ্যতামূলক অবস্থায় কোনো ব্যক্তি নিজ মাতৃভূমি ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় গ্রহণ করে, তবে তাকে রিফিউজি বা শরণার্থী বলা হয়। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা বিচ্ছিন্নতাবাদী নয়, তারা শরণার্থী। তাদের নিয়ে বিএনপি নেতা হাফিজের হুশিয়ারি বাণী রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এটি সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি বর্তমানে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের 'উপযোগী নয়' বলে সম্প্রতি জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের বড় একটি রাজনৈতিক দলের নেতা রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র ট্রেনিং দিয়ে ছেড়ে দেয়ার হুমকি প্রত্যাবাসনে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। মিয়ানমার এমনিতেই প্রত্যাবাসন ইস্যুতে টেবিলে বসতে চায় না। তার ওপরে এই ধরণের হুমকিকে অজুহাত হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।

এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র ট্রেনিং দেয়ার বিষয়ে মেজর হাফিজ যে বক্তব্য দিয়েছেন তা দলীয় বক্তব্য নয়। এটি তার একান্ত ব্যক্তিগত ও মনগড়া বক্তব্য। তার বক্তব্যের দায়ভার দল নিবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন মির্জা ফখরুল।

Share This Article


মার্কিন নিষেধাজ্ঞা: ভূরাজনীতির শিকার বাংলাদেশ!

ডয়চে ভেলের একপেশে ও পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদনের লক্ষ্য প্রশ্নবিদ্ধ: আইএসপিআর

জেনারেল আজিজ ইস্যুতে উজ্জীবিত কেন বিএনপি?

গণহত্যাকারীদের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সাফাইকে অনৈতিক আখ্যা আওয়ামী লীগ সম্পাদকের

বঙ্গোপসাগরে বিমান ঘাঁটি নির্মাণ ও নতুন রাষ্ট্র গঠনের ভয়াবহ অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর মুখে!

শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ: ডয়চে ভেলের রিপোর্ট নিয়ে জাতিসংঘের মন্তব্যে উদ্বিগ্ন হবার কিছু নেই!

জাতিসংঘ শান্তি মিশন থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিতে তারা এত তৎপর কেন?

জিয়াউর রহমান বাংলা বুঝতেন না: বিষয়টি গর্বের নাকি লজ্জার?

আর্থিক চাপে বিএনপি: জামায়াতের সহযোগিতা কামনা!

ভিসা নীতির অধীনে সাবেক সেনাপ্রধানকে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র!

ধর্মের বিকাশে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর কন্যা যা করেছেন তেমনটি আর কেউ করেননি: কাদের

উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীদের বহিষ্কার, বিএনপির ভুল সিদ্ধান্ত নাকি কৌশল?