জ্বালানি সংকটমুক্ত হলো কি বাংলাদেশ?

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ বিকাল ০৪:১৭, রবিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৩, ৫ চৈত্র ১৪২৯

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি খাতে কঠিন এক সময় পার করছে পুরো বিশ্ব। উচ্চ মূল্যের জ্বালানি কিনতে দিশাহারা বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ। এই চ্যালেঞ্জের মধ্যে যেতে হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশকেও। তবে এরইমধ্যে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে এ সংকট কেটে যাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অতি সম্প্রতি পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি শুরু হয়েছে, যা ১৫ বছর ধরে আমদানি করা হবে। প্রথম তিন বছর বার্ষিক দুই লাখ টন করে, পরের তিন বছর তিন লাখ টন করে, পরের চার বছর পাঁচ লাখ টন করে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে বার্ষিক ১০ লাখ টন করে জ্বালানি আসবে।

জানা গেছে, জ্বালানি সংকট কাটাতে আন্তর্জাতিক খোলা বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিও শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে সিঙ্গাপুরের স্পট মার্কেট থেকে কেনা ৬০ মেট্রিক টন এলএনজি দেশে এসেছে। আগামী জুন পর্যন্ত ১০-১২টি কার্গো আসার পরিকল্পনা রয়েছে পেট্রোবাংলার।

এছাড়া বাংলাদেশে এলএনজি রপ্তানি করতে চায় রাশিয়াও। দেশটি বাংলাদেশে যৌথভাবে এলএনজি টার্মিনালও স্থাপন করতে আগ্রহী। মস্কোর সঙ্গে আলোচনা এগোলে রাশিয়া হবে এলএনজি আমদানির জন্য বাংলাদেশের তৃতীয় উৎসস্থল। পাশাপাশি দেশটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসও (এলপিজি) বাংলাদেশে রপ্তানি করতে চায়।

অন্যদিকে বৈশ্বিক এই সংকটময় সময়ে শীর্ষ জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ কাতারকেও পাশে পাচ্ছে বাংলাদেশ। গত ৫ মার্চ এক বৈঠকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে বছরে আরো এক মিলিয়ন টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জবাবে কাতারের আমির প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, আমি আমাদের জ্বালানিমন্ত্রীকে নির্দেশ দিচ্ছি। কাতার সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে কাতারের সঙ্গে জিটুজি পদ্ধতিতে (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট) ১৫ বছরের জন্য এলএনজি চুক্তি করেছে।

এদিকে জ্বালানি সংকট কাটাতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে সৌরবিদ্যুতের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। আগামী এক বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ২ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।  

জানা গেছে, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের জন্য জমির বহুমুখী ব্যবহার নিয়ে ভারতের স্টেজ এনার্জি সার্ভিস ও বাংলাদেশের টেকনোবিন এনার্জি সার্ভিস সম্প্রতি একটি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশ এখনই পুরোপুরি জ্বালানি সংকটমুক্ত না হলেও সরকারের সমপয়োগী পদক্ষেপেগুলো ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর ও চলমান আমদানি অব্যাহত থাকায় জ্বালানি সংকট কেটে যাওয়ার আশা করছেন তারা। তাদের মতে, ভারত থেকে পাইপলাইনে ডিজেল আমদানি, কাতারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, রাশিয়া ও সৌদি আরবের সাথে সমঝোতা এবং বিভিন্ন দেশ থেকে এলএনজি গ্যাস আমদানি চূড়ান্ত হওয়ায় দেশের জ্বালানী খাত শঙ্কামুক্তই বলা যায়।

Share This Article