ভারতীয় হাই কমিশনারের বাস ভবনে বিএনপি নেতাদের নৈশভোজের রহস্য কি?

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ বিকাল ০৪:৩৮, শনিবার, ১৮ মার্চ, ২০২৩, ৪ চৈত্র ১৪২৯

অনেকদিন ধরেই তত্ত্বাবধায়ক বা জাতীয় সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ফর্মুলা নিয়ে  বিভিন্ন মহলে ধরনের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে  বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় হাইকমান্ডের নির্দেশে ১৬ মার্চ ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার বাসায় নৈশভোজে অংশ নিয়ে তার সাথে বৈঠক করেন দলটির ৫ নেতা।তারা হলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।

তবে ঘটনার অন্তরালে রয়েছে আরেকটি সত্য। তা হলো, ভারতীয় নতুন হাইকমিশনারকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসায় আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি বিনয়ের সাথে তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে কূটনৈতিক সৌজন্যতা রক্ষায়  বিএনপিকে নিজ বাসভবনে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান প্রণয় ভার্মা। ওই দিনের  নৈশভোজের পরে ঘন্টা ব্যাপী  আলোচনার বিষয় প্রকাশ্যে কেউ মুখ না খুললেও বিএনপির অভ্যন্তরে আলোচনার সূত্র ধরে তা প্রকাশ হয়ে পড়ে।

জানা যায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা জাতীয় সরকারের অধীনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের প্রতি চাপ প্রয়োগে ভারতীয় হাইকমিশনারকে অনুরোধ জানান নৈশভোজে অংশ নেয়া ওই ৫ নেতা। এছাড়া আন্দোলন সংগ্রামে পাশের বন্ধু দেশ ভারতের সমর্থনের পাশাপাশি সম্পর্ক বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা।

তবে নির্বাচন ইস্যুতে সংবিধানের বাইরে কোনো প্রক্রিয়ায় সরকারকে অনুরোধ করার বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করে বিএনপির সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে উল্টো ৪টি শর্ত দেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।

৪টি শর্ত হলো:

১.আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে হবে।

২. বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন করে পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে  সত্যিকার একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে উন্মুক্ত করতে হবে।সেই লক্ষ্যে  তারেক রহমানকে আপাতত দল থেকে দূরে সরিয়ে অবসরে পাঠাতে হবে।

৩. জামায়াতের সাথে বিএনপির সম্পর্কচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধী দলের সাথে বিএনপি যেন কোনো সম্পর্ক না রাখে তার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

৪. আপাতত নির্বাচন কেন্দ্রিক আন্দোলন সংগ্রাম না করে জনগণের স্বার্থ সংস্লিষ্ট  ইস্যুতে আন্দোলন ও কর্মসূচি  গ্রহণ করে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সমালোচকরা বলছেন, ভারতীয় হাই কমিশনার সম্ভবত আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে আনার জন্য মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছেন। যেহেতু নির্বাচন আসন্ন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মির্জা ফখরুল বলেছেন তারা সংলাপে বসবেন না। তাই ভারত একটি মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে যাতে বিএনপি আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। তবে তারা বলছেন, সরকারকে চাপ দিতে বিএনপি ভারতকে অনুরোধ করলেও সেই সুযোগ আসলে ভারতের নেই। কারণ স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারত হস্তক্ষেপ করতে পারে না। কিন্তু বিদেশিদের দিয়ে এমন অপচেষ্টা বিএনপি বরাবরই করে আসছে। আর ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ভারতের সাথে বিএনপির যে চরম বৈরিতা তৈরি হয় তা দূর করতেই সম্ভবত বিএনপি এই উদ্যোগ গ্রহণ করে।

Share This Article


ধর্মের বিকাশে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর কন্যা যা করেছেন তেমনটি আর কেউ করেননি: কাদের

উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীদের বহিষ্কার, বিএনপির ভুল সিদ্ধান্ত নাকি কৌশল?

ভিনদেশি রাষ্ট্রদূত যেভাবে বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন

ইন্ডিয়া আউট ও জামায়াত প্রসঙ্গে বিএনপিকে গণতন্ত্র মঞ্চের নানা প্রশ্ন

কর্মসূচির আগে লিয়াজোঁ কমিটি গঠনে চাপ বিএনপির মিত্রদের

সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে গুজব: শীর্ষে নাগরিক টিভি

বাংলাদেশ নিয়ে মার্কিন অবস্থান পরিবর্তনের নেপথ্যে

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়া কেন শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন?

বিএনপি-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে কি ফাটল ধরেছে?

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটার্ন না কৌশল পরিবর্তন

জেনারেল জিয়া কেন শেখ হাসিনাকে দেশে ঢুকতে দিয়েছিলেন

ডোনাল্ড লু'র যে বক্তব্যে কপালে চোখ সরকারবিরোধীদের!