বিএনপি অংশ না নিলে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না, এ কথা বলেনি ইইউ!

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সন্ধ্যা ০৭:১২, মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ, ২০২৩, ২৯ ফাল্গুন ১৪২৯

নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে না এমন কথা পশ্চিমাদের কাছে অনেক আগেই স্পষ্ট করেছে বিএনপি। অন্যদিকে সাংবিধানিকভাবে এই সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে, এই সিদ্ধান্তে অনড় আওয়ামী লীগ। এই অবস্থায় আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে না এটা  অনেকটাই  নিশ্চিত।

অথচ এই অবস্থাতেই ১৬ ফেব্রুয়ারী ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি বাংলাদেশের পররষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক চিঠি পাঠিয়ে জানান, তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাতে চান। সেদিন ইইউ প্রতিনিধিরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠকও করেন।

এতে অনেকটাই স্পষ্ট হয় শুধু বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না’ এমনটি ভাবছে না ইইউ। যদি এমনটাই ভাবতো তাহলে বাংলাদেশে পর্যবেক্ষক পাঠানোর প্রস্তাবই করতো না ইইউ। আর ইইউ এর এই অবস্থানটি বিএনপির জন্য মোটেই সুখকর ছিলো না।

এ অবস্থাতেই গত ১২ মার্চ ইইউ প্রতিনিধি দলের প্রধান চার্লস হোয়াইটলির বাসায় গিয়ে দেখা করেন বিএনপির প্রতিনিধি দল। বরাবরের মতো বিএনপিকেও ইইউ প্রতিনিধি দল জানায়, দেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হলে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না ইইউ।

তবে বিএনপি নির্বাচনে না এলে ইইউ তাদের পর্যবেক্ষক পাঠাবে না, কিংবা বিএনপি নির্বাচনে না এলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না, এমন কথা এখনও স্পষ্ট করেনি ইইউ প্রতিনিধিরা। কারণ তারা অনেকটাই নিশ্চিত এই সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে আসবে না।

এদিকে  কিছু সংবাদ মাধ্যম ইতিমধ্যে এমনভাবে সংবাদ প্রকাশ করছে যাতে মনে হতে পারে বিএনপি নির্বাচনে না এলে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না ইইউ,যদিও সেটি বিএনপির বরাতে প্রকাশ করা হয়েছে, ইইউ এর তরফে বা সূত্রে নয়।

এর পাশাপাশি ২০১৪  ও ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়েও ভুল তথ্য মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ওই সময় বিএনপি অংশ না নেয়ায় পর্যবেক্ষক পাঠায়নি ইউরোপীয় ইউনিয়ন।কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, ২০১৪ সালের নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগেই বিবৃতি দিয়ে ইইউ জানিয়েছিল, বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি। সংঘাতময় পরিবেশে তারা পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। যেখানে তারা সকল রাজনৈতিক শক্তিকে সমানভাবে দায়ী করেছিলো।

এছাড়া ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপিসহ বড় দলগুলো অংশ নিলেও পর্যবেক্ষক মিশন পাঠায়নি ইইউ। এর মূল কারণ ছিলো  ইইউ এর বাজেট ঘাটতি ও অন্য দেশের নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়া। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়নি এমন কোন অভিযোগ করেনি ইইউ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধানত কিছু বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ইইউ বিভিন্ন দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায়। এর মাঝে গুরুত্বপূর্ণ হলো পর্যবেক্ষকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, নির্বাচিত বা বৈধ সরকার, সহিংসতা মুক্ত ভোটের সম্ভাবনা, আর্থিক সক্ষমতা ও অধিকাংশ দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের পরিবেশ। আর এই বিষয়গুলির উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে বলেই তারা পর্যবেক্ষক পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করে সরকারকে চিঠি দিয়েছে। বিশেষ কোনো দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে তাগিদ দেয়া তাদের এখতিয়ার বহির্ভুত নয় এবং সেটি তারা কখনোই করেনি।

Share This Article


উপজেলা নির্বাচন বর্জন : লাভের চাইতে ক্ষতি বেশি বিএনপির!

উপজেলা নির্বাচন নিয়ে সংকটে বিএনপি: প্রকাশ্য বিদ্রোহ!

ফের কূটনীতিকদের দৌড়ঝাঁপ: ব্রিটিশ ও মার্কিন কূটনীতিকদের তৎপরতা শুরু!

বিশ্ববাজারে ভোজ্য তেলের দাম কি কমেছে?

দেশের মানুষের ‘নিরাপত্তা’ নিয়ে ইউনুসের দুশ্চিন্তা: সোশ্যাল মিডিয়ায় হাস্যরস!

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন ১৭ এপ্রিল

আন্দোলন নিয়ে শরিকদের কোনো দিক নির্দেশনা দিতে পারছে না বিএনপি!

কখনোই যাকাত-ফেতরা দেননা ড. ইউনুস!

বিএনপির আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা ছিলো না বলেই সরকার পতন হয়নি: শিবির সভাপতি

পুরস্কার নিয়ে ড. ইউনূসের চালাকিতে ইউনেস্কোর বিস্ময়!

মুজিবনগর সরকারের দক্ষতায় ৯ মাসে হানাদার মুক্ত হয় বাংলাদেশ

সামরিক শাসকের অধীনে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া ইউনূসের মুখে গণতন্ত্র!