নোবেল বিজয়ীগণ কি আইনের উর্ধে?

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ দুপুর ০২:৪৮, মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ, ২০২৩, ২৯ ফাল্গুন ১৪২৯

মহৎ ব্যক্তিরা দেশ জাতি রাষ্ট্র ও তার আইনের প্রতি সর্বাধিক শ্রদ্ধাশীল থেকেই মহত্ত্ব অর্জন করে অনুকরণীয় হন। কিন্তু মহত্বের পরীক্ষায় ড. ইউনূস বারবার পরাজিত হয়েছেন। নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে ওঠাবার অপচেষ্টায় নিজেকেই ছোট করেছেন বারবার।

 

নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের অন্যায় আক্রমণের শিকার হচ্ছে মর্মে কথিত ৪০ বিশ্বনেতা তার সমর্থনে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন, যা গত ৭ মার্চ মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টে বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হয়। তবে উক্ত চিঠির ভাষা ও উপস্থাপন ভঙ্গিতে তাকে আইনের ঊর্ধ্বে মহান এক ব্যক্তিতে পরিণত করার চেষ্টাকে আপত্তি জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

উক্ত চিঠিতে ড. ইউনুসকে বিভিন্নভাবে উপস্থাপন শেষে বলা হয়, " ড. ইউনূস ঢাকায় সাদামাটাভাবে বসবাস করছেন৷ তার মতো একজন অনবদ্য পরিশুদ্ধ মানুষ ও তার কার্যক্রমগুলো সরকারের অন্যায় আক্রমণের শিকার হচ্ছে৷ বারবার হয়রানি ও তদন্তের মধ্যে পড়ছে৷ এমনটা দেখতে পাওয়া বেদনাদায়ক।’’

বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, তাঁকে কোথায় কিভাবে বাধা দেয়া হলো বা কি অন্যায় আচরণের শিকার হলেন, তা উল্লেখ না করেই অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, তর্কের খাতিরে যদি তার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছিল সেটিকে বা তার বিষয়ে যে তদন্ত চলছে, সেগুলোকে বাধা বা অন্যায় আচরণ ধরা হয়, তবে সেগুলো কি সরকার করেছে? বরং তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের করা মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।উপরন্ত এ মামলার দ্বারা প্রমাণ হয়েছে তিনি অন্যায় আচরণের শিকার নয় বরং তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই তার অন্যায় আচরণের শিকার হয়েছিলেন। এ কারণে ৪০০ কোটি টাকা পরিশোধও করতে হয়েছিল তাকে।

নাঈমুল ইসলাম খান প্রশ্ন রেখে বলেন, তিনি কি আইনের ঊর্ধ্বে? বা আরও যারা নোবেল বিজয়ী আছেন তারা কি কখনও ড. ইউনূসের মতো নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে ভাবেন? এর আগেও অনেক নোবেল বিজয়ী আইনের মুখোমুখি হয়েছেন। আমেরিকায় বসবাসকারী একজন নোবেল বিজয়ী ধর্ষণ মামলার আসামী হয়েছিলেন। এমনকি অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অর্মত্য সেনকেও আইনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

অমর্ত্য সেনের শান্তি নিকেতনের বাসস্থানের জমি ফেরত চায় বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারা কয়েক বছর ধরেই এ বিষয়ে অধ্যাপক অমর্ত্য সেনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছিল, যাতে তিনি তাঁর শান্তি নিকেতনের পৈতৃক বাড়িসংলগ্ন জমির একাংশ ছেড়ে দেন। অমর্ত্য সেনকে বিষয়টির জন্য আইনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। যদিও আদালত তার পক্ষেই রায় দেয়। কিন্তু তিনি ড. ইউনূসের মতো ক্ষমতা  ব্যবহার করে বিষয়টিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেননি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ড. ইউনূস মূলত আইনের মুখামুখি হতে এমনকি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতেও ভয় পান। তাই বারবার 'খোলা চিঠি'র আশ্রয় নিয়ে নিজের পক্ষে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন।

তারা আরও বলেন, মহৎ ব্যক্তিরা দেশ জাতি রাষ্ট্র ও তার আইনের প্রতি সর্বাধিক শ্রদ্ধাশীল থেকেই মহত্ত্ব অর্জন করে অনুকরণীয় হন। কিন্তু মহত্বের পরীক্ষায় ড. ইউনূস বারবার পরাজিত হয়েছেন। নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে ওঠাবার অপচেষ্টায় নিজেকেই ছোট করেছেন বারবার।

বিষয়ঃ বাংলাদেশ

Share This Article

‘বাংলাদেশের প্রথম সাবমেরিন ঘাঁটি স্থাপন গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা’

২৫ মার্চের প্রথম ব্যারিকেড এক বীরত্বের ইতিহাস: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিএনপির আন্দোলন:সত্য হলো যে সন্দেহ!

পশ্চিমাদের উচিত বাংলাদেশে হওয়া গণহত্যার স্বীকৃতি দেওয়া: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

স্মার্ট বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ ও মাদকের ঠাঁই নেই: ডেপুটি স্পিকার

বাসযোগ্য ঢাকার জন্য নাগরিকদের সচেতনতা জরুরি: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

প্রতিটি ছবিরই একটি নিজস্ব ভাষা রয়েছে: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

নাইকো দুর্নীতি মামলা: সাজা হতে পারে বেগম জিয়ার!

একতরফা নির্বাচনের গল্প ও বাস্তবতা: দায় কার?

চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপনির্বাচন: আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ১৩ জন