‘রক্তচোষা’ গ্রামীণ ব্যাংক: ড. ইউনূসের লাভ-ক্ষতির হিসাব

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ বিকাল ০৩:৪৫, রবিবার, ১২ মার্চ, ২০২৩, ২৭ ফাল্গুন ১৪২৯
  • কাজের জন্য বেছে নেন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর জোবরা গ্রাম। 
  • জোবরা থেকেই নরওয়ের অসলোতে মিলল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল পুরস্কার।
  • গ্রামীণ ব্যাংকের নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলে জানান জোবরা গ্রামের বাসিন্দারা।
  • সুদ দিতে দিতে আর্থিক অবস্থা খারাপের দিকে যায় তাদের।
  • হাসপাতাল করা দূরের কথা, আর জোবরা গ্রামেরই খোঁজ নেননি ড. ইউনূস।

গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণের আঁতুড়ঘর চট্টগ্রামের জোবরা গ্রাম। আর এই জোবরা থেকেই নরওয়ের অসলোতে মিলল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল পুরস্কার। কিন্তু সেই গ্রামেই এখন গ্রামীণ ব্যাংক মানে ‘রক্তচোষা’। ড. ইউনূস মাঝেমধ্যেই বলেন- ‘গ্রামীণ ব্যাংক একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে ইউনূসের পক্ষে সাফাই গেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের 'ওয়াশিংটইন পোস্ট'-এ প্রকাশিত বিজ্ঞাপনে কথিত বিশ্বনেতাদের 'খোলা চিঠি'তেও এগুলোকে অলাভজনক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। অথচ এর আড়ালে রয়েছে বিরাট লাভের ব্যবসা।

সূত্রমতে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক থাকতেই হতদরিদ্র মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর পরিকল্পনা মাথায় আসে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের। কাজের জন্য বেছে নেন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর জোবরা গ্রাম। কাজটি সবার নজরে আনতে সেই গ্রামে নিয়ে আসেন বিদেশি সাংবাদিক। পরিচয় করিয়ে দেন সোফিয়া নামের এক নারীর সঙ্গে। দোতলা ভবন দেখিয়ে ক্ষুদ্রঋণে সোফিয়ার জীবন বদলে গেছে বলে বিদেশি সাংবাদিককে জানান ড. ইউনূস। 

তবে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ফের গোপনে জোবরা গ্রামে যান সেই বিদেশি সাংবাদিক। এবার তার সঙ্গে ছিলেন না ড. ইউনূস। আর তখনই সামনে আসে ‘প্রকৃত সত্য’। বদলে যায় ভবনটির মালিকের পরিচয় ও নারীর নাম। বেরিয়ে আসে ভাড়া করা নারীদের দিয়ে জোবরা গ্রামের পরিচয় দেয়ার বিষয়টিও।

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ের আগে এভাবেই গ্রামীণ ব্যাংকের নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলে জানান জোবরা গ্রামের বাসিন্দারা। এক বৃদ্ধ জানান, জোবরা গ্রামের কথা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বলে বেড়াচ্ছেন ড. ইউনূস। কিন্তু এই গ্রামের কোনো উন্নয়নই করেননি তিনি। উল্টো গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণের জালে ফেলে মানুষের রক্ত চুষেছেন। গরিবের নাম বেচে বিদেশ থেকে টাকা তুলে নিজে ধনী হয়েছেন।

৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বলেন, আমার নানির ঘরের পাশে ধানের খড়কুটো ছিটিয়ে বিদেশি সাংবাদিককে দিয়ে ছবি তুলেছেন ড. ইউনূস। ওই সময় দোতলা ভবনটিরও ছবি তোলেন তিনি। 

গ্রামের চা দেকানি মতিন মিয়া বলেন, সোফিয়া খাতুন এখন বেঁচে নেই। তার দুজন সন্তান রয়েছেন। আর্থিক অবস্থা মোটামুটি ভালো থাকতেই গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ক্ষুদ্রঋণ নেন সোফিয়া। কিন্তু সুদ দিতে দিতে আর্থিক অবস্থা খারাপের দিকে যায় তাদের। ঘরবাড়িও বিক্রি করতে হয়েছে ঋণ পরিশোধ করতে। পরে তাদের ঘর করে দেন গ্রামের লোকজন।

'জোবরা' গ্রাম বিক্রি করেই ড. ইউনূস নিজের স্বার্থ হাসিল করেছেন বলে জানান ওই গ্রামেরই আরেক যুবক। তিনি বলেন, নোবেল পুরস্কার পেয়ে হাসপাতাল করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ড. ইউনূস। কিন্তু হাসপাতাল করা দূরের কথা, তিনি আর জোবরা গ্রামেরই খোঁজ নেননি।

শুধু জোবরা গ্রামই নয়; বাংলাদেশের কোনো গ্রামের কল্যাণেই আসেনি গ্রামীণ ব্যাংক। এই ব্যাংককে এখন ‘গজব’ হিসেবেও দেখেন অনেক নারী। প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা জানান, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সাপ্তাহিক কিস্তি চালাতে চালাতেই জীবন শেষ হয়ে যায়। কিস্তি না দিলে ঘরের বেড়া খুলে নেন ব্যাংকের লোকজন। কিস্তি পরিশোধের দিন এলে অনেকে ঘরবাড়িতে তালা লাগিয়ে পালিয়ে থাকেন। এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দেড় লাখ দিলেও মূলধনই পরিশোধ হয় না অনেকের। গ্রামীণের এই গোলকধাঁধায় আটকে দরিদ্র মানুষদের সর্বশান্ত করেন ড. ইউনূস। 

অলাভজনক হিসেবে নিবন্ধিত হয় তার আরেকটি প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ টেলিকম’। অথচ এই প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে গড়ে আয় হয় হাজার থেকে ১২০০ কোটি টাকা। গ্রামীণ টেলিকম সংক্রান্ত মামলার নথি থেকে জানা যায় এ তথ্য। আর এই গ্রামীণ টেলিকমেরই অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছিল প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকরা। যদিও পাঁচ বছর মামলা লড়ার পর ৪০০ কোটি টাকা বকেয়া দিতে বাধ্য হন ড. ইউনূস।

সমালোচকরা বলেছেন, কথিত বিশ্বনেতাদের আলোচিত ‘খোলা চিঠি'তে ড. ইউনূসের কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন নেই বলে দাবি করা হলেও তার গড়া সব প্রতিষ্ঠানই এখনও পুরোটাই লাভজনক ব্যবসা। মুখে গ্রামীণ নারী বা জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নের কথা বললেও তিনিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন গ্রামের মানুষের, যার হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংককে। মূলত গ্রামীণ সেবার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে সাধারণ মানুষদের বিশ্বাস অর্জন করার পর নিজে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার ফাঁদ পেতেছিলেন এই শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. ইউনূস।

বিষয়ঃ বাংলাদেশ

Share This Article


সুবিধাভোগীর মাইক্রোফোন কেড়ে নেয়ায় ক্ষেপে গেলেন প্রধানমন্ত্রী!

ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করলেও দেশটির বিরোধী দলের ভূমিকা এড়িয়ে গেলেন মির্জা ফখরুল!

১১ জুন: গণদাবির মুখে শেখ হাসিনাকে কারামুক্তি দেয় সরকার

টিআইবি এসব রিপোর্ট কেন দেয়?

তারেক রহমানের সাথে বেনজিরের একাধিকবার যোগাযোগের তথ্য বিশ্বাসযোগ্য কি?

প্রসঙ্গ বাজেট: খালেদা জিয়াকেও কি দুর্বৃত্ত বলবে বিএনপি?

বৈধ আয়ে কর ৩০%, কালো টাকায় ১৫% কেন

বিএনপি সরকার কেন কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছিল?

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ কেন দেয়া হয়

হঠাৎ অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ কেন ফখরুলের?

বাজেট সমালোচনা যুগেযুগে: কেউ কারো বাজেটের প্রশংসা করেনি!

ছয়দফা কেন বাঙালির মুক্তির সনদ