ওয়াশিংটনের ‘পেইড’ বিজ্ঞাপন, ড. ইউনূসকে মহান বানানোর প্রচেষ্টা!

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ বিকাল ০৩:২৬, শুক্রবার, ১০ মার্চ, ২০২৩, ২৫ ফাল্গুন ১৪২৯
  • চিঠিতে যারা সই করেছেন, তাদের তালিকা দেখলেই বোঝা যায়, তারা সবাই প্রভাবশালী না।
  • ড. ইউনূস বাংলাদেশে কী ধরনের ক্ষতিকর কার্যক্রমে জড়িত, সে বিষয়ে এ দেশের সাধারণ মানুষ ভালোভাবেই জানেন।
  • শুধু ফোন করেই বলা হয় ‘ভাই আপনার নামটি কিন্তু দিয়ে দিলাম’।
  • তার কার্যক্রমের ওপর কোথায় বাধা এসেছে? এটি তাদের প্রথম অভিযোগ, যার কোনো ভিত্তি নেই’।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে 'বিশ্বনেতাদের খোলা চিঠি' নিয়ে ফের জন্ম দিয়েছে নতুন বিতর্কের। তবে শান্তিতে নোবেলজয়ী বাংলাদেশি এই অর্থনীতিবিদকে মহান বানানোর প্রচেষ্টাকে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের নতুন কৌশল বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।

বিশ্বনেতাদের ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়, ‘বাংলাদেশ এবং সারা বিশ্বের মানবিক অগ্রগতিতে অবদান রাখার জন্য প্রফেসর ইউনূসের স্বাচ্ছন্দ্য ও সামর্থ্যের বিষয়ে আমাদের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। আমরা এটা নিশ্চিত আপনি অবগত আছেন যে, বাংলাদেশে এবং গোটা বিশ্বে বিশেষ করে অত্যন্ত দরিদ্র এবং সবচেয়ে অরক্ষিতদের জন্য মুহাম্মদ ইউনূসের অবদান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এবং সম্মানিত। মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ টেলিকম বা গ্রামীণফোনে জড়িত থেকেও আর্থিকভাবে লাভবান হননি। ঢাকায় সাধারণভাবে বসবাস করছেন। তাই একজন অনবদ্য সততার অধিকারী অধ্যাপক ইউনূস এবং তার জীবনের কর্মকে আপনার সরকার কর্তৃক অন্যায়ভাবে আক্রমণ করা এবং বারবার হয়রানি ও তদন্ত করতে দেখাটা বেদনাদায়ক’।

বিজ্ঞাপন দিয়ে খোলা চিঠি প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ড. ইউনূসের সঙ্গে সরকার এমন কোনো আচরণ করেনি যার জন্য বিশ্বনেতাদের খোলা চিঠি দিতে হবে। তাও বিজ্ঞাপন দিয়ে ছাপাতে হবে। তবে ড. ইউনূস বাংলাদেশে কী ধরনের ক্ষতিকর কার্যক্রমে জড়িত, সে বিষয়ে এ দেশের সাধারণ মানুষ ভালোভাবেই জানেন।

এ প্রসঙ্গে সিনিয়র সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, চিঠিতে যারা সই করেছেন, তাদের তালিকা দেখলেই বোঝা যায়, তারা সবাই প্রভাবশালী না। তবে কেউ কেউ আছেন, যাদের যৌক্তিক প্রভাব আছে। কাজেই চল্লিশ সংখ্যা বা চল্লিশজনই খুবই গুরুত্বপূর্ণ- এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল’।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেও অনেক বিবৃতি দেয়া হয়, যেখানে ১১১, ১৫০ জনের নাম থাকে। অনেক সময় তাদের সঙ্গে কথাও বলা হয় না। তারা কন্টেন্ট বিষয়ে কিছুই জানেন না। শুধু ফোন করেই বলা হয় ‘ভাই আপনার নামটি কিন্তু দিয়ে দিলাম’।

আরেকটি বিষয় হলো এটি ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিকতা না। তারা এটি নিয়ে প্রতিবেদন করেনি। তাদের গবেষণা কিংবা অনুসন্ধানও না, তারা ছেপেছে। এটি ‘পেইড (টাকার বিনিময়) কন্টেন্ট’।

সিনিয়র এই সাংবাদিক আরও বলেন, ‘ড. ইউনূসের কি বিদেশ যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা আছে? তিনি দেশের বাইরে শত শত জায়গায় যাচ্ছেন, তাকে বাধা দেয়া হয়েছে? বিমানবন্দরে যেতে দেয়া হয়নি? আমরা তো এমন কিছু জানি না। তার কার্যক্রমের ওপর কোথায় বাধা এসেছে? এটি তাদের প্রথম অভিযোগ, যার কোনো ভিত্তি নেই’।

ইউনূসকে মহানায়ক বানাতে মার্কিন লবির তৎপরতা:

২০২২ সালে ড. ইউনূসকে মহানায়ক বানানোর তৎপরতা শুরু করে মার্কিন লবি। একই বছরের ৬ অক্টোবর ইউনূসকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সুইডেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নেত্রনিউজ। যুক্তরাষ্ট্রের ফান্ডে দেশটির একটি এনজিওর অর্থায়নে চলে অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি। প্রতিবেদনটি করেন বিতর্কিত সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান। এর এক সপ্তাহ পর ১৩ অক্টোবর ইউনূসকে মহানায়ক বানিয়ে খবর প্রকাশ করে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য ইকোনমিস্ট।

অতি সম্প্রতি ড. ইউনূস সরকারের ‘অন্যায় আচরণের শিকার’- এমন অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন ৪০ বিশ্বনেতা। যা ৭ মার্চ পূর্ণ-পাতা বিজ্ঞাপন হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভত্তিক গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টে। আর এ বিজ্ঞাপনে খরচ হয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রা ৭৮ লাখ ১৪ হাজার ৫৮৪ টাকা। কিন্তু ড. ইউনূস কী ধরনের অন্যায় আচরণ কিংবা আক্রমণের শিকার; তার ছিটেফোঁটা কোনো তথ্যও তুলে ধরা হয়নি ওই বিজ্ঞাপনে।

ইউনূসের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ:

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। নরওয়েভিত্তিক 'পিস কমিটি' কতৃক ড. ইউনুসকে 'নোবেল' পুরস্কারে ভূষিত করা হলেও সেই রাষ্ট্রটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেই তাকে নিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা সরানোর বিষয় সম্পর্কিত তথ্যচিত্র সম্প্রচারিত হয়েছিল একযুগ আগে। বর্তমানে অনুসন্ধান চলছে গ্রামীণ টেলিকমের দুর্নীতি। এছাড়া ১/১১ সরকারের সময় প্রধান দুই দলের নেত্রীকে মাইনাস করে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই লক্ষ্যে ওই সময় 'গ্রামীণ পার্টি নামে একটি দলও গঠন করেছিলেন তিনি। পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বাতিলের নেপথ্যেও তার নাম এসেছিল জোরালোভাবে।

উল্লেখিত চিঠিতে গ্রামীণ ব্যাংকের কথা তুলে ধরে ড. ইউনূসকে মহানায়ক বানানোর চেষ্টা করেন বিশ্বনেতারা। অথচ গ্রামীণ ব্যাংক দিয়েই ১৯৭৬ সালে দেশে অসহায় মানুষদের মাঝে 'সুদভিত্তিক ঋণ প্রদান' প্রথা চালু করেন ইউনূস, যে ঋণের ফাঁদে পড়ে পথে বসেছেন অনেক দরিদ্র মানুষ। বসতি ভিটাও বিক্রি করেছেন অনেকে।

এছাড়া মাইক্রোক্রেডিটের (ক্ষুদ্রঋণ) জনক হিসেবে ইউনূসকে চিঠিতে পরিচয় করে দেয়া হয়েছে, যা পুরোপুরি মিথ্যা বলে দাবি করেন সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, মাইক্রোক্রেডিট ড. ইউনূসের উদ্ভাবন না। তিনি এটির ফলোয়ার মাত্র। পাকিস্তান আমলে যেমন ব্যাপকভাবে এই ঋণ কার্যক্রম ছিল, স্বাধীনতার পরও তা চালু ছিল। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় আসার পরপরই গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে এটিকে নতুন করে আলোচনায় আনেন তিনি।

অন্যদিকে শ্রমিকদের অর্থ লোপাট ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সহযোগী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করার অভিযোগ উঠেছিল গ্রামীণ টেলিকমের তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ২০২১ সালে ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে ঢাকার কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদফতর। পরবর্তীতে ১৭৬ জন শ্রমিককে পাওনা বাবদ ৪০০ কোটি টাকা দিয়ে বিষয়টি সমঝোতা করেন ড. ইউনূস।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন বহু অনৈতিক কাজের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ড. ইউনূসকে নিয়ে এমন খোলা চিঠি দেয়া বোধগম্য নয় । তারা জানান, সম্ভবত নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই ওয়াশিংটন পোস্টে বিজ্ঞাপন দিয়ে আলোচনায় আসতে চাইছেন ড. ইউনূস। তবে এর মাধ্যমে সরকারকে বিব্রত করা ও দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের পাশাপাশি একজন নোবেলজয়ী হিসেবে নিজের মর্যাদাকেও খাটো করলেন তিনি।

Share This Article


ব্যাংক খাত নিয়ে পরিকল্পিত অপপ্রচার!

বিএনপির মহাসচিব নিয়োগে তারেকের সাথে তৃণমূলের মতবিরোধ!

যত মার্কিন কর্মকর্তাই আসুন বিএনপির আশাবাদী হওয়ার ন্যূনতম কারণ নেই!

দল পুনর্গঠনে সরকার বিরোধিতার নতুন কৌশলে জাতীয় পার্টি!

উপজেলা নির্বাচন : বিএনপির ৭ জনের জয়ে বেকায়দায় স্থানীয় দায়িত্বশীলরা!

বিএনপির আন্দোলন: ভারত বিরোধিতাই মুখ্য হয়ে উঠছে!

বিএনপি নেতারা ক্লান্ত: জানালেন গয়েশ্বর

বিবিসি প্রতিবেদন: তৃণমূলের উপর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে!

কেন গরমে নয় আন্দোলন: জানালেন মান্না

উপজেলা নির্বাচন: 'জয়ী-বহিষ্কৃতদের' গোপনে সমর্থন জানাচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা!

সাত জানুয়ারির নির্বাচনে যেতে মোটা অংকের টাকা দাবি করেছিলেন মান্না!

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আসছে: বিবিসির প্রতিবেদন