ধর্ম নয়, রাজনীতির কলকাঠিতেই হামলা হয়েছে আহমদিয়াদের ওপর !

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সন্ধ্যা ০৬:০৫, সোমবার, ৬ মার্চ, ২০২৩, ২১ ফাল্গুন ১৪২৯

প্রতিবছরের মতো গত ৩ মার্চ শুক্রবার একটি বার্ষিক জলসার আয়োজন করতে যাচ্ছিল আহমদিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন। আদর্শগত মতপার্থক্য থাকায় বাংলাদেশের ইসলামী দলগুলো নিয়মিতই এর বিরোধীতা করে। তাই অপ্রিতীকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখানে প্রতিবছর বাড়তি জনবল নিয়োগ করে।

কিন্তু শতর্ক থাকার পরও এবছর ঘটে যায় অপ্রীতিকর ঘটনাটি। কারণ এবছর ইসলামী দলগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় এলাকাবাসীও লিপ্ত হয়েছিলো এই হামলায়, তারাও লাঠিসোটা নিয়ে পথে নেমে আসে এবং আহমদিয় সম্প্রদায়ে ওপর হামলা করে। প্রশ্ন হচ্ছে এবছর কেন স্থানীয় মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো? 

জানা গেছে এবছর সাধারন মানুষকে ক্ষিপ্ত করে তোলা হয় একটি গুজবের মাধ্যমে। যে গুজবটি ছড়িয়েছিলেন স্থানীয় যুবদল নেতা ফজলে রাব্বি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। আহমদিয়ারা দুজন কে গলকেটে হত্যা করেছে, তাদের লাশ আমি দেখে এসেছি এমন গুজব রটান ফজলে রাব্বি। এসময় তার সহযোগীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজবটির ডালপালাও ছড়িয়ে দেন।

এমন গুজবের প্রেক্ষিতেই উত্তেজিত হয়ে ওঠে এলাকাবাসী। রাব্বিসহ গুজব চক্রের ১৭ জনকে ইতিমধ্যে পুলিশ আটক করেছে। আর এখান থেকেই রাজনীতির যোগসুত্রটি বের হয়ে এসেছে। আসুন দেখে নিই রাজনীতির যোগসুত্রটি কোথায়?

রাজনৈতিক যোগসূত্র:

ঘটনার প্রথম যোগসুত্র হচ্ছে দেশের ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগের এখন তেমন কোন বিরোধ নেই। আর আগামী নির্বাচনের আগে যদি বিরোধ সৃষ্টি করা না যায় তাহলে নির্বাচনের মাঠে বিএনপিকে একাই আওয়ামী লীগের মোকাবেলা করতে হবে।

বিগত বছরগুলোতে বিএনপির সঙ্গে ইসলামী দলগুলোর দুরত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে প্রকাশ্যেই বিরোধ চলছে। অন্যদিকে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চলছে আওয়ামী লীগের। এমনকী গতবছর ২ জুন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের জাতীয় সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বক্তৃতাও দিয়েছেন হাছান মাহমুদ।

অন্যদিকে তীক্ততা দিয়ে সম্পর্ক শুরু হলেও হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে এখন তেমন কোন বিরোধ নেই আওয়ামী লীগের। তারা এখন অনেকটাই স্তিমিত এবং এই দলের একটি অংশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে।

এর বাইরে ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও খেলাফত মজলিস সরকারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান থেকে সরে এসেছে। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে আগামী নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোকে নিয়ে নতুন একটি ফ্রন্টও খোলার চিন্তা করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

এ অবস্থায় ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে দুরত্ব তৈরী করা, যে কোন মূল্যে তাদের মধ্য বিরোধ লাগানো বিএনপির ফাস্ট প্রায়োরিটি টাস্ক বলে বিবেচিত হচ্ছে। আর এই বিরোধ লাগানোর জন্য আহমদিয়া ইস্যু একটি মোক্ষম অস্ত্র।

কিভাবে কাজ করবে এই অস্ত্র ?

বাংলাদেশের ইসলামী দলগুলো কোন অবস্থাতেই আহমদিয়া সম্প্রদায়কে মুসলিম হিসেবে স্বীকার করতে রাজি না। তাদের অমুসলিম ঘোষণার জন্য  দীর্ঘদিন ধরেই দাবী জানিয়ে আসছে তারা। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়,  মানবাধিকার সংগঠনের চাপ ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারনে আহমদিয়াদের অমুসলিম ঘোষণা বা নিষিদ্ধ করা সম্ভব নয় সরকারের পক্ষে।কেননা এটি জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা বিরুদ্ধ,যা প্রায় সকল দেশই মেনে চলে।

এ অবস্থায় যদি আহমদিয়াদের সঙ্গে ইসলামী সংগঠনগুলোর বিরোধ তুঙ্গে ওঠে তাহলে উভয় সংকটে পড়বে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সরকার আহমদিয়াদের নিষিদ্ধ না করলে ইসলামী দলগুলোর তোপের মুখে পড়বে ।  মূলত এই অস্ত্রটি কাজে লাগাতেই আহমদিয়া সম্প্রদায়ের উপর হামলা চালাতে উস্কানি, হামলা আর হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Share This Article


ইন্ডিয়া আউট ও জামায়াত প্রসঙ্গে বিএনপিকে গণতন্ত্র মঞ্চের নানা প্রশ্ন

কর্মসূচির আগে লিয়াজোঁ কমিটি গঠনে চাপ বিএনপির মিত্রদের

সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে গুজব: শীর্ষে নাগরিক টিভি

বাংলাদেশ নিয়ে মার্কিন অবস্থান পরিবর্তনের নেপথ্যে

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়া কেন শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন?

বিএনপি-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে কি ফাটল ধরেছে?

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটার্ন না কৌশল পরিবর্তন

জেনারেল জিয়া কেন শেখ হাসিনাকে দেশে ঢুকতে দিয়েছিলেন

ডোনাল্ড লু'র যে বক্তব্যে কপালে চোখ সরকারবিরোধীদের!

ডোনাল্ড লু'তে ভুল ভাঙলো বিএনপির!

সমমনাদের প্রতি বিএনপির আকস্মিক গুরুত্বের উদ্দেশ্য খুঁজছে যুগপৎসঙ্গীরা!

ব্যাংক খাত নিয়ে পরিকল্পিত অপপ্রচার!