খালেদাকে ‘মাইনাস’ ফখরুলের, বিএনপিতে উত্তেজনা!

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ দুপুর ১২:৩১, বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০২৩, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৯
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
  • ফখরুল কি আসলেই তা চান; এমন প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলের।
  • ফখরুলকে নিয়ে নতুন করে দলের ভেতর আলোচনা-সমালোচনা।
  • সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও তারেকের কাছের মানুষ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ফের বিপাকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে তার। এবার খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে ফখরুলের মন্তব্য ঘিরে বিএনপিতে দেখা দিয়েছে নতুন উত্তেজনা। সিনিয়র এই নেতার মন্তব্যে অনেকেই দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মাইনাস করার প্রক্রিয়া হিসেবেও দেখছেন। তবে ফখরুল কি আসলেই তা চান; এমন প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলের। 

সম্প্রতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে খালেদা জিয়ার রাজনীতি করার প্রসঙ্গে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘পুরোপুরি মুক্ত হওয়ার পরই রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন খালেদা জিয়া’; এর আগে নয়। এরপরই ফখরুলকে নিয়ে নতুন করে দলের ভেতর আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

বিএনপি নেতারা জানান, ক্ষমতা নিয়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মধ্যে এক ধরনের গোপন লড়াই এমনিতেই রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অভিযোগ ও সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও তারেকের কাছের মানুষ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হলেও তারেকের সঙ্গে ঘনিষ্টতার জন্যই মহাসচিব পদে এখনও বহাল রয়েছেন তিনি।

কিন্তু মহাসচিবের এমন বক্তব্যে তারেক রহমানের কোনো প্রতিক্রিয়া জানা না গেলেও বিস্মিত হয়েছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তারা বলছেন, খালেদা জিয়াকে একেবারে মুক্ত করতে হলে আদালত থেকে জামিন নিয়েই মুক্ত করতে হবে। কারণ দুটি মামলায় অর্থাৎ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছর ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাত বছরের জেল হয় খালেদা জিয়ার। ফলে তাকে এখনই পুরোপুরি মুক্ত করা সম্ভব নয়।

অপরপক্ষ বলছে, যেহেতু নির্বাহী আদেশে বেগম জিয়া মুক্ত জীবনযাপন করছেন এবং 'খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে কোনো বাধা নেই'- আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে প্রকারান্তরে তার রাজনীতি করার সবুজ সংকেত ও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তাহলে মির্জা ফখরুল কেন 'প্রদত্ত সুযোগকে' কাজে না লাগিয়ে উল্টো কথা বলছেন? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তৃণমূলে। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি খালেদা জিয়াকে মাইনাস করে তারেক রহমানের একক কর্তৃত্বের পথকেই সুগম করতে চাইছেন তিনি? তারেক রহমানের গোপন ইশারায়ই কি তিনি এমন মন্তব্য করেছেন?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন শীর্ষ আইনজীবী বলেন, 'খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আইনি কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই বিএনপির। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুটি মামলায় হাইকোর্ট রায়ের পর লিভ টু আপিল করলেও ঝুলে রয়েছে তিন বছর ধরে। বিএনপি কোনো মামলাই নিষ্পত্তির জন্য চেষ্টা করছে না। যদিও খালেদা জিয়ার জামিন নাকচ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। তবে সরকারের নিবার্হী আদেশে নিজ বাসভবন ফিরোজায় থাকার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। এখন রাজনীতি করার কথা বললেও সুযোগ নিচ্ছেন না খালেদা জিয়া, বা তাকে সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। বক্তৃতা বা বিবৃতি দিতে শারীরিক সুস্থতা মুখ্য নয়। এরপরও কোনো বিবৃতি দেননি বিএনপির এই নেত্রী। তাহলে কি খালেদাকে মাইনাস করে তারেক রহমানকেই প্রধান নেতৃত্বে নিয়ে আসতে চান মির্জা ফখরুল?'

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছে সরকারি মহল। আর এ নিয়ে বিএনপির খুশি হওয়ার কথা। অথচ দলটি বেশ উদাসীন। সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যে খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে একটু একটু করে সক্রিয় করাতে পারতেন বিএনপি নেতারা। তাকে দিয়ে কোনো বক্তৃতা বা বিবৃতিও দেয়াতে পারতেন। এতে দলের লাভ হতো। কারণ দলে তারেক রহামনের চেয়েও খালেদা জিয়ার গ্রহণযোগ্যতা বেশি। কিন্তু সে সুযোগ নেয়নি দলটি। উল্টো তারা কর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।

বিষয়ঃ বিএনপি

Share This Article


প্রসঙ্গ বাজেট: খালেদা জিয়াকেও কি দুর্বৃত্ত বলবে বিএনপি?

বৈধ আয়ে কর ৩০%, কালো টাকায় ১৫% কেন

বিএনপি সরকার কেন কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছিল?

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ কেন দেয়া হয়

হঠাৎ অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ কেন ফখরুলের?

বাজেট সমালোচনা যুগেযুগে: কেউ কারো বাজেটের প্রশংসা করেনি!

ছয়দফা কেন বাঙালির মুক্তির সনদ

ভারতে বিজেপি দুর্বল হওয়ায় বিএনপি খুশি, আওয়ামী লীগও খুশী!

জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যু পেয়েও সুযোগ হারাচ্ছে বিএনপি!

বন্ধ করে দেয়া ১৪৮ ফেসবুক আইডি বা পেজ এর মালিক কে?

কার অভিশাপের কথা বললেন ড. ইউনুস?

ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের দাম কোনোভাবেই বেশি নয়!