পদযাত্রার আড়ালে বিএনপির নাশকতা, হাতে হাতে রড, ককটেল !

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ রাত ০৮:৪৮, শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ১২ ফাল্গুন ১৪২৯

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নামে ১০ দফা দাবিতে জেলায় জেলায় পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করছে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। এ পদযাত্রার আড়ালে দলটির বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ উঠেছে, যেখানে নেতাকর্মীদের হাতে হাতে রড, লাঠি, বাঁশ নিয়ে সংঘর্ষে জড়াতে দেখা গেছে। একাধিক জেলায় দোকানপাট ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনাও ঘটেছে। এতে ছয় জেলায় পুলিশ, সাধারণ মানুষসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।  

২৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, নেত্রকোনা, নাটোর, নীলফামারী ও বাগেরহাট জেলায় সংঘর্ষ চালায় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এতে ৩০ পুলিশ সদস্য ও ৬০ জন নিরীহ মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের সবাই এখন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

 

জানা যায়, বিএনপির এসব পদযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। সকাল থেকেই তাদের সাথে সংঘর্ষ বাধে পুলিশের। দফায় দফায় এ সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠে জেলা শহরগুলো।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি জেলা শহরে বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আড়ালে নেতাকর্মীরা রড, লাঠি হাতে রাস্তায় নামলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশ রড ও লাঠি ছাড়া মিছিলের অনুরোধ করলে বিএনপির কর্মীরা আরও উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে পুলিশের ওপর  বিনা উস্কানিতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে সদর থানার ওসি ফিরোজ কবীরের মাথায় ইট পড়ে ফেটে যায় ও এসআই নজরুল ইসলাম ও এসআই শফিকুল ইটের আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ ঘটনায় ১০ পথচারীও আহত হন।

পটুয়াখালীতে পদযাত্রা চলাকালে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙ্গচুর করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ যুক্ত হলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। এক পর্যায়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান কর্মীরা। এ ঘটনায় তিন বিএনপি কর্মীকে আটক করে পুলিশ।

নেত্রকোনা জেলায় বিএনপির পদযাত্রায় শহরের পারলা বাসস্টেশন, বনোয়াপাড়া, কুড়পাড়, মোক্তারপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস ভাঙচুরসহ বেশ কিছু ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। হামলায় পুলিশ ও পথচারীসহ ৪০ জন আহত হন।

এদিকে, নীলফামারী শহরের পৌর সুপারমার্কেটের সামনে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শান্তি সমাবেশ শুরু করে জেলা আওয়ামী লীগ। একই সময়ে পাশে দলীয় কার্যালয়ের সামনে পদযাত্রার জন্য সমবেত হন জেলা বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা। এ সময় বিএনপির সভাস্থল থেকে কয়েকজন কর্মী আওয়ামী লীগের সভাস্থলে হামলা চালিয়ে তাদের টাঙানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে চেয়ার ভাঙচুর করেন। এতে করে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক বলেন, সভা শুরু হলে বিএনপি নেতা-কর্মীরা উসকানিমূলক ও অশ্লীল বক্তব্য দিতে থাকেন। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এর প্রতিবাদ করলে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে ধস্তাধস্তিতে উভয় পক্ষের ২০ নেতাকর্মী আহত হয়।

নাটোর শহরের আলাইপুরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের পাশে পদযাত্রা কর্মসূচী শুরু হলে একে একে ছয়টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতংক সৃষ্ট হয় জনমনে। পরে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এছাড়া গাজীপুর ও বাগেরহাটেও নাশকতা চালায় বিএনপির কর্মীরা। পদযাত্রার আড়ালে সেখানে দুটি দোকানে অগ্নি সংযোগ ঘটায় তারা। এসব ঘটনায় বিএনপির ২০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ১১ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায়ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাবেশের নামে পরিকল্পিত নাশকতা ঘটায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। সে হামলায় সাধারণ মানুষসহ ২০ জন আহত, ১৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করাসহ বেশকিছু দোকান পাট ভাংচুরের শিকার হয়েছেন খেটে খাওয়া হতদরিদ্র মানুষও।

সমালোচকরা বলছেন, সম্প্রতিক সময়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মারমূখী আচরণ ও বিশৃঙ্খলার কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে পরিস্থিতি নিজের অনূকুলে আনতে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করছে তারা। সহিংস এ মনোভাবের ফলে দল উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও জানান তারা।

বিষয়ঃ বিএনপি

Share This Article