যেসব কারনে বন্ধ হলো 'দৈনিক দিনকাল' পত্রিকা

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ রাত ০৮:৪৮, বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ১০ ফাল্গুন ১৪২৯

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মালিকানাধীন 'দৈনিক দিনকাল' পত্রিকার প্রকাশনা গত ২৬ ডিসেম্বর বাতিল করা হয়েছে। পত্রিকাটি বন্ধ করার পেছনে  একাধিক কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তারা বলছেন, ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধন) আইন ১৯৭৩ অনুযায়ী কোন পত্রিকার প্রকাশক যদি ৬ মাসের অধিক সময় দেশের বাইরে থাকেন, তাহলে প্রকাশকের দ্বায়িত্ব অন্য কাউকে হস্তান্তর করতে হবে। কিন্তু বিএনপি নেতা তারেক রহমান ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে লন্ডনে অবস্থান করছেন এবং এ পর্যন্ত কাউকে সেই দ্বায়িত্ব হস্তান্তরও করা হয়নি।

 

জানা যায়, ২০০২ সালের ১৬ এপ্রিল দৈনিক দিনকাল পত্রিকাটি ডিক্লারেশন পায়, যার রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার ছিলো ৭২/২০০২। পত্রিকাটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অফিসের ঠিকানা ও ছাপাখানা পরিবর্তন করে, যা মোটেও বিধিসম্মত নয়। বিধি লংঘন করায় ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর পত্রিকাটির ডিক্লেরেশন বাতিল করার জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন জানায়, যার স্মারক নং- ২৯০/২। পরে জেলা প্রশাসক কারণ দর্শাতে দিনকালকে নোটিশ প্রদান করেন।

কিন্তু দৈনিক দিনকাল কর্তৃপক্ষ সেই কারণ দর্শানো নোটিশের উপযুক্ত জবাব প্রদান না করে প্রকাশনা অব্যাহত রাখে যা, ‘দ্যা প্রিন্টিং প্রেসেস অ্যন্ড পাবলিকেশন্স (ডিক্লেরেশন অ্যান্ড রেজিষ্ট্রেশন) আইন ১৯৭৩’ এর যথাক্রমে ১০,১১,১৬,২১, (১) (খ) ধারার সরাসরি লংঘন। পত্রিকাটির প্রকাশক, সম্পাদক, ও ছাপাখানা পরিবর্তনের বিষয়ে দিনকাল কর্তৃপক্ষ কোনো প্রমাণ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরকে অবহিত না করায় ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর আবার ‘দ্যা প্রিন্টিং প্রেসেস অ্যন্ড পাবলিকেশন্স (ডিক্লেরেশন অ্যান্ড রেজিষ্ট্রেশন) আইন ১৯৭৩’ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করে যার স্মারক নং-৬৮৬৮।

আবেদনের প্রেক্ষিতে নিয়ম লংঘন প্রমাণিত হওয়ায় দৈনিক দিনকাল পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল ঘোষণা করে ঢাকা জেলা প্রশাসক। পরবর্তীতে এর বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর দিনকাল কর্তৃপক্ষ প্রেস কাউন্সিল বোর্ড বরাবর আপীল করে। ওই দিনই প্রেস কাউন্সিল বোর্ড দিনকাল কতৃপক্ষকে আপীলের শুনানির জন্য ২০২৩ সালের ১০ জানুয়ারি জেলা প্রশাসককে নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে আপীলের জবাব দিতে বলে। ১০ জানুয়ারি ঢাকা জেলা প্রশাসকের শুনানির দিন প্রেস কাউন্সিল বোর্ডের কাছে দিনকাল কর্তৃপক্ষ সেই আপীলের জবাব জমা দেয়।

একইদিন আপিল জবাবের কপি দিনকাল কর্তৃপক্ষের হাতে দেওয়া হয়। তখন আপিল প্রস্তুতির নেয়ার জন্য দিনকাল কতৃপক্ষ প্রেস কাউন্সিলের বোর্ডের কাছে দুই মাস সময় আবেদন করে। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রেস কাউন্সিল বোর্ড মানবিক বিবেচনায় ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দৈনিক দিনকাল পত্রিকার প্রকাশনা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় এবং জেলা প্রশাসকের আদেশকে স্থগিত রেখে আপীল শুনানির সময় বাড়িয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করে। সঙ্গে এই শুনানির সময় আর বাড়ানো হবে না মর্মে দিনকাল কর্তৃপক্ষকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়।

২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারির শুনানিতে দৈনিক দিনকালের আইনজীবীদের কাছে আদালত জানতে চায়, তারেক রহমান একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হয়ে কীভাবে প্রকাশক/সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করছে? কেন ঘোষণাপত্রে মুদ্রণ ঠিকানা পরিবর্তনের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়নি? এর জবাবে দিনকাল জানায়, তারেক রহমান ২০১৬ সালে ফরম-সি এ প্রকাশক পরিবর্তন করে অধ্যাপক মাজেদুল ইসলামকে প্রকাশক করে এবং পাওয়ার অফ এটর্নি ক্ষমতা বলে বাংলাদেশ হাইকমিশন লন্ডন অফিসে আবেদন করে। যার কোনো অনুলিপি না পাওয়ার কারণে সে বিষয়ে কোনো তথ্য জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে দিতে পারেনি দিনকাল কর্তৃপক্ষ। ফলে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শুনানী শেষে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলও পত্রিকাটির আপিল খারিজ করে দেয়।

এছাড়া পত্রিকার বিরুদ্ধে বড় অভিযোগটি হচ্ছে ২০২০ সালে পত্রিকাটি তাদের কর্মচারী ও সাংবাদিকদের চার মাসের বেতন না দিয়েই হঠাৎ করে বন্ধ করে দেয়। পত্রিকাটি এই পদক্ষেপ নেয়ার সময় কোনো স্টাফ বা কর্মচারীর সাথে আলোচনা করেনি, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

সমালোচকরা বলেন, 'দৈনিক দিনকাল' তো দেশের আইনের উর্ধে কোন পত্রিকা নয় । তারা নিয়ম-নীতির কোনো তোয়াক্কা না করেই কার্যক্রম চালিয়ে এসেছে এবং এর প্রকাশকও সাজপ্রাপ্ত আসামী যা আইন বিরুদ্ধ। সর্বশেষ অভিযুক্ত পক্ষকে আইনি লড়াইয়ের সুযোগ দিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাদের ডিক্লেরেশন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া নিয়মের বাইরে চলা প্রায় ২০০ টি পত্রিকার ডিক্লারেশনও বাতিল করা হয়েছে।কারণ আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে দেশের গণমাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।
 

বিষয়ঃ বাংলাদেশ

Share This Article


ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিচার চলবে কি না, জানা যাবে ১২ জুন

দুর্নীতির মামলায় ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিচার শুরু

যৌন হয়রানির প্রমাণ পেলে আইন পেশায় না: অ্যাটর্নি জেনারেল

প্রাথমিকে তৃতীয় ধাপে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণে বাধা নেই

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ: ভাইভা হলেও তদন্তের আগে ফল প্রকাশ নয়

তদন্তে থাকা মামলায় গণমাধ্যমে বক্তব্য বন্ধে আইনি নোটিশ

প্রাথমিকে ৪৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম স্থগিত করলেন হাইকোর্ট

খালেদা জিয়ার কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি ৫ আগস্ট

এমপি আনার হত্যা: তিন আসামি ৮ দিনের রিমান্ডে

পি কে হালদারের দুই সহযোগীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

ভিকারুননিসার ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল, অনিয়ম তদন্তের নির্দেশ

কনডেম সেলে জামায়াত নেতাদের সুবিধা দিতে রিট হয়ে থাকতে পারে