যে কারণে বিএনপিতে ফের গুরুত্ব বাড়ছে বহিষ্কৃত ও নিষ্ক্রিয়দের

  নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ দুপুর ০২:৫৫, বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ১০ ফাল্গুন ১৪২৯
বিএনপির লোগো -ফাইল ছবি
বিএনপির লোগো -ফাইল ছবি
  • ‘জ্বালাও-পোড়াও’ আন্দোলন চান তারেক রহমান
  • দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছক আঁকছে বিএনপি
  • অতীতের পথেই হাঁটতে চায় দলটি

ক্ষমতায় যেতে আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছে বিএনপি। চলছে নানামুখী পরিকল্পনাও। বিদেশিদের কাছেও ধরনা দিচ্ছেন শীর্ষ নেতারা। একই সঙ্গে সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনে পদবঞ্চিত ও বহিষ্কৃতদের দলে সুযোগ করে দিতে চাইছে বিএনপির হাইকমান্ড। তবে সবাইকে নয়; বিশেষ করে ২০১৩-১৪ সালে ‘জ্বালাও-পোড়াও’ আন্দোলনে সফলতা অর্জনকারীরাই এবার গুরুত্ব পাচ্ছেন দলে, যদিও বহিষ্কৃতদের দলে ফেরাতে আপত্তি জানিয়েছে বিএনপির তৃণমূল।

সূত্রমতে, ধীরগতি আন্দোলন পছন্দ নয় তারেক রহমানের। সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে সমাবেশ ও পদযাত্রায় এ উপলব্ধি হয়েছে তার। এছাড়া দলে ‍গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কয়েকজন নেতার প্রতি আস্থাও নেই তার। ফলে ‍রাজপথ কাঁপানো তথা জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনে অভিজ্ঞ নেতাদের গুরুত্ত্ব দিয়ে সামনে আনতে চান তিনি। এরই মধ্যে এ বিষয়ে  দিকনির্দেশনা  দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একজন নেতা জানান, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের ফেরাতে এরই মধ্যে জেলা, মহানগর ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে দলটি। এছাড়া বিভিন্ন কারণে যারা দল ছেড়েছেন, তাদেরও ফিরিয়ে এনে আন্দোলনে যুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন শীর্ষ নেতারা।

তবে বহিষ্কৃতদের দলে ফেরানোর বিপক্ষে মত দিয়ে তৃণমূল নেতারা জানান, সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য প্রয়োজন বৃহত্তর ঐক্য। কিন্তু ২০১৩-১৪ সালে আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াওসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন কিছু অতিউৎসাহী নেতা-কর্মী। এসব করে তখন দলের ক্ষতি ডেকে এনেছেন তারা। আবারো তারা দলে ফিরলে অস্বস্তিতে পড়বেন ত্যাগী নেতা-কর্মীরা। এ নিয়ে বিশৃঙ্খলারও ‍সৃষ্টি হতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, আন্দোলন চাঙা করতেই মূলত বিভিন্ন কারণে বহিষ্কৃত ও পদ হারানোদের দলে ভেড়ানো এবং গুরুত্ত্ব দেয়ার এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজনকে দলে ভেড়ানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকিদেরও ফেরানো হবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বহিষ্কৃতদের না ফেরানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে হাইকমান্ড। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে যেসব নেতা-কর্মী বহিষ্কার হয়েছেন কিংবা দল ছেড়েছেন তাদের ব্যাপারে নির্দেশনা রয়েছে।

জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছক আঁকছে বিএনপি। অতীতের পথেই হাঁটতে চায় দলটি। এজন্যই বহিষ্কৃত ও প্রায় নিষ্ক্রিয়দের দলে টানার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। আর তাদের দিয়েই প্রয়োজনে দেশে ফের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে নির্বাচন বানচালের পাঁয়তারা করছেন তিনি। এরই মধ্যে তারেক রহমানের নির্দেশে গত ১১ ফেব্রুয়ারি পদযাত্রা কর্মসূচির নামে দেশের কয়েকটি স্থানে তাণ্ডবও চালিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা জানান, আন্দোলনের পাশাপাশি কূটনৈতিকপাড়ায় তৎপরতা বাড়িয়েছে বিএনপি। গত এক মাসে বেশ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন দলটির কয়েকজন সিনিয়র নেতা। তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবেও বেশ কয়েকজন নেতা কয়েকটি দেশ সফর করেছেন। তবে আশানুরূপ তেমন কোনো সামাধান মেলেনি। তাই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য বহিষ্কৃত ও পদ হারানো সন্ত্রাসে বিশ্বাসী নেতাকর্মীদের দলে ভেড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইকমান্ড।

কোনো কোনো নেতার দাবি, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে আন্দোলনে সুফল দেখছেন না তারেক রহমান। তিনি চান সহিংসতার আন্দোলন; যা বর্তমান নেতাদের দিয়ে হচ্ছে না। এসব কারণেই পুরোনো বহিষ্কৃত ও নিষ্ক্রিয়দের গুরুত্ত্ব দিচ্ছেন তিনি।

Share This Article


যত মার্কিন কর্মকর্তাই আসুন বিএনপির আশাবাদী হওয়ার ন্যূনতম কারণ নেই!

দল পুনর্গঠনে সরকার বিরোধিতার নতুন কৌশলে জাতীয় পার্টি!

উপজেলা নির্বাচন : বিএনপির ৭ জনের জয়ে বেকায়দায় স্থানীয় দায়িত্বশীলরা!

বিএনপির আন্দোলন: ভারত বিরোধিতাই মুখ্য হয়ে উঠছে!

বিএনপি নেতারা ক্লান্ত: জানালেন গয়েশ্বর

বিবিসি প্রতিবেদন: তৃণমূলের উপর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে!

কেন গরমে নয় আন্দোলন: জানালেন মান্না

উপজেলা নির্বাচন: 'জয়ী-বহিষ্কৃতদের' গোপনে সমর্থন জানাচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা!

সাত জানুয়ারির নির্বাচনে যেতে মোটা অংকের টাকা দাবি করেছিলেন মান্না!

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আসছে: বিবিসির প্রতিবেদন

ফালুকে নিয়ে বিএনপিতে নতুন করে আলোচনা

উপজেলা নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কি সন্তোষজনক?