হঠাৎ মারমূখী বিএনপি: সমাবেশে লাঠি ও রড নিয়ে আসার আহ্বান!

গত ২২ আগস্ট থেকে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ও লোডশেডিংয়ের দাবিতে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে আসছে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। এসব কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীদের হাতে বাঁশ দেখা যায়। ২১ সেপ্টেম্বর মিরপুরে এক সমাবেশে এখন থেকে বাঁশের সাথে মোটা লাঠি ও রড নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

 

এ সময় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “ এখন থেকে মোটা মোটা বাঁশের লাঠি নিয়ে রাস্তায় নামতে হবে। প্রত্যেকের হাতে লাঠি থাকবে।”  বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলামও প্রত্যেক সমাবেশে লাঠি ও রড নিয়ে অবস্থান করার ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর মিরপুরের পল্লবীতে বিএনপির সমাবেশেও বেশির ভাগ নেতা-কর্মীর হাতে বাঁশ, কাঠের লাঠি ও প্লাস্টিকের পাইপ ছিল।

কিন্তু হঠাৎ করেই বিএনপি নেতা কর্মীদের এমন মারমূখী অবস্থান কেন? এটি কিসের ইঙ্গিত?বিএনপির এমন মারমূখী অবস্থানে জনমনে ভীতি ও শঙ্কা যেমন জেগেছে, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও এ নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ।

সমালোচকরা বলছেন ,সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক অনুষ্ঠানে দলীয় নেতা-কর্মীদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংযমী হতে হবে। কোন সহিংসতায় জড়ানো যাবে না। ধৈর্যের সাথে সব  পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। নেতা-কর্মীদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, প্রত্যেককে সংযমী হতে হবে।’ সাধারণ সম্পাদকের সংযমী হওয়ার এমন বক্তব্যকে আওয়ামীলীগ এর দুর্বলতা ভেবে হয়তো কিছুটা মারমুখি হয়ে উঠেছে বিএনপি।

দ্বিতীয়ত, আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি রাজপথে তাদের নিজেদের শক্তির জানান দিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এছাড়া বারবার আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় ঝিমিয়ে পড়া নেতা-কর্মীদের কিছুটা চাঙ্গা করার কৌশলও থাকতে পারে।

সর্বোপরি শঙ্কার যে বিষয় সকলকে ভাবিয়ে তুলেছে তা হলো আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য সঙ্কট তৈরির প্রচেষ্টা। কেননা বিএনপি বরাবরই বলে আসছে এ সরকারের অধীনে নির্বাচনে তারা অংশ নেবেনা এবং নির্বাচনও হতে দেবেনা। আর স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশে এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই একটি অস্বাভাবিক ও উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির জন্যই হয়তো বিএনপি পরিকল্পিতভাবেই হঠাৎ মারমূখী অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, বিএনপির এমন সিদ্ধান্ত দেশের জন্যতো নয়ই নিজ দলের জন্যও বুমেরাং হতে পারে।কেননা দেশের মানুষ আর ২০১৩-১৪ সালের সেই বিভীষিকাময় পরিস্থিতির শিকার হয়ে কোনো দলের রাজনৈতিক অর্জন দেখতে চায়না। এছাড়া আন্তর্জাতিক মহলও সম্প্রতি বিভিন্ন সেমিনারে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলে এমন রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়েছিলেন, যাতে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত না হয়। তারা তাই সরকারকেও এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় সতর্ক হওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন।

Share This Article


ভূয়া সেনা কর্মকর্তা সেজে ধরা খেয়েছিলেন সামি

জুলকারনাইন সামির ভুয়া গোয়েন্দা রিপোর্টের তালিকা!

বিএনপির সাথে সংলাপ ইস্যু: ভাঙ্গণের মুখে কল্যাণ পার্টি

‘হাসিনা : এ ডটারস টেল’ গল্পের প্রশংসায় ব্রুনেইয়ের চলচ্চিত্র নির্মাতা

কূটনীতিকদের সাথে জাতীয় পার্টির ঘনিষ্ঠতায় ষড়যন্ত্রের আভাস

জামায়াতকে যুদ্ধাপরাধের জন্য ক্ষমা চাইতে বলেছে বিএনপি !

দূরত্ব বাড়ছে জামায়াতের, গুরুত্ব বাড়ছে বামদের

বিএনপির সাত এমপি ভোগ করছেন রাজকীয় সুবিধা !

তারেককে নিয়ে অসন্তোষ : বিএনপির আন্দোলনে নেই শীর্ষ চার নেতা !

১ হাজার নারী উদ্যোক্তা পেলেন সরকারি প্রকল্পের ৫ কোটি টাকা

মানবতার ছদ্মবেশে ভোটের রাজনীতিতে জামায়াত!

রিফাইনারি আধুনিকরণ: জ্বালানি তেল মিলবে অনেক কম দামে!

মুজিবুর রহমান মঞ্জু, মুজিবুল হক চুন্নু, নুরুল হক নুর ও রুমিন ফারহানা

ডানপন্থিদের নিয়েই জোট চূড়ান্ত বিএনপির

বাংলাদেশ কেন আর কোনও রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেবে না

ক্ষমতায় যখন শেখ হাসিনা

বৈশ্বিক অভিঘাত মোকাবেলায় সরকারের করণীয় নির্ধারণ