রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, লোডশেডিং: বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য মূলত ৩টি জিনিস লাগে।

(১) পাওয়ার প্ল্যান্ট

(২) সঞ্চালন লাইন

(৩) জ্বালানি

২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার তিনটি খাতেই চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছিল। কোনও বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়নি। বিএনপি আমলে ৫ বছরে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ার কথা ছিল সেই তুলনায় তারা প্রায় শূন্য শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছিল। বিএনপি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ব্যর্থ হয়েছিল বলেই বাংলাদেশে দিনের অধিকাংশ সময়ে লোডশেডিং হতো।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের আমলে গত ১৪ বছরে ৫ গুণ বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করেছে, সঞ্চালন লাইন স্থাপন করেছে এবং জ্বালানি বহুমুখীকরণের উদ্যোগও নিয়েছে।

আওয়ামী লীগ এখানে সফল। আওয়ামী লীগ আমলে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ার কথা ছিল তার থেকে অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে।

 

বিএনপি, দেশের ৪৭ শতাংশ মানুষকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৩/১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিতে পারে নাই। আওয়ামী লীগ সরকার ১০০ শতাংশ মানুষকে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিতে পেরেছে। পার্থক্যটা এখানে বিস্তর!

২০০১ থেকে ২০০৬ বিএনপি-জামায়াত আমলে বিশ্বে জ্বালানির কোনও সংকট ছিল না, সংকট ছিল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যথেষ্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের এবং বাস্তবধর্মী জ্বালানি নীতির। আর ছিল বিদ্যুৎ খাতে চরম দুর্নীতি। যে কারণে বিএনপি আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় শূন্য শতাংশ।

আওয়ামী লীগ কিছুদিন আগ পর্যন্তও দেশের শতভাগ মানুষকে লোডশেডিং মুক্ত বিদ্যুৎ সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু এখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের ঘাড়েও এসে পড়েছে। এটা তো আর আওয়ামী লীগ সরকারের দোষ নয়। অথচ কিছু বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ এই সমস্যাকে বিএনপি আমলের সমস্যার সঙ্গে তুলনা করছে, কী আজব!

আওয়ামী লীগের দুর্ভাগ্য হলো, সাম্প্রতিক রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে পুরো বিশ্বেই জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এই বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও কিছুটা বিপদে পড়েছে। দুঃখজনক হলো যে, কোনও দুর্যোগ-দুর্বিপাকে শেখ হাসিনা সরকার কোনও সমস্যায় পড়লেই বিএনপি-জামায়াতের সমর্থকরা তাদের সস্তা রাজনীতি শুরু করে দেয়। এরা রাজনৈতিকভাবে এতটাই দেউলিয়া যে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য দুর্যোগ-দুর্বিপাকের ওপর নির্ভর করে মানুষের সাময়িক কষ্টকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

আজকের এই বিশ্ব বাস্তবতায় আমরা আরও অনুধাবন করতে পারছি, জ্বালানি বহুমুখীকরণ এবং একই সঙ্গে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কেন দরকার, কতটা দরকার। অথচ বিভিন্ন ঠুনকো অভিযোগ তুলে এর বিরোধিতা করার লোকেরও অভাব নেই।

মিথ্যাই যাদের বেসাতি এবং কুতর্কই যাদের অস্ত্র তাদের আমি হেদায়েত কামনা করি।

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও কিছুটা সংকটে পড়েছে, তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সকলকেই সাশ্রয়ী হতে বলেছেন। যে কোনও দায়িত্ব-জ্ঞান সম্পন্ন দেশপ্রেমিক নাগরিক এই পরামর্শকে ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করবেন।

লেখক: মোহাম্মদ এ. আরাফাত। চেয়ারম্যান, সুচিন্তা ফাউন্ডেশন

Share This Article


সাকিবকে পাপনের হুঁশিয়ারি

আগস্ট মাস আসলেই বিএনপি উন্মাদ হয়ে যায় : বাহাউদ্দিন নাছিম

জ্বালানি তেলের লাভের টাকায় এফডিআর কেন!

৫ লাখ কর্মী নেবে মালয়েশিয়া, বেতন ৬০ হাজারেরও বেশি!

৭ বছর ধ‌রে পলাতক জেএমবির ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি গ্রেপ্তার

দেশে বুস্টার ডোজ নিয়েছেন ৪ কোটির বেশি মানুষ

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর নির্দেশনা:সহজেই রেমিটেন্স পাঠাতে পারবেন প্রবাসীরা

গরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডল গ্রেপ্তার

বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

ছেলের ছবি প্রকাশ করলেন পরীমণি, জানালেন নাম

জ্বালানি তেল নিয়ে প্রথম আলোর বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা!

বেশি দামে আটা বিক্রি, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

কাশ্মিরে সামরিক ঘাঁটিতে হামলা, ৩ ভারতীয় সেনা নিহত

হেঁটে ময়মনসিংহ থেকে টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছেন মোস্তফা

পৃথিবীর শুষ্কতম স্থানে ১০০০ বছর পর বন্যা!