ডলার সংকট: নেপথ্যে কারা?

বাজারে কৃত্রিম ডলার সংকট সৃষ্টি করে সরকারকে চাপে ফেলার একটি ষড়যন্ত্র চলছে, এমনটি মনে করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। আর এটি তদন্তের জন্য মাঠে নেমেছে তারা। বিভিন্ন কার্ভ মার্কেটে (যেখানে খোলাবাজারে ডলার বিক্রি হয়) গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সরকার মনে করছে, সরকারকে চাপে ফেলতে বাজার থেকে ডলার সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, হজ বা ঈদের ছুটির সময় ডলারের উপর একটা চাপ থাকা স্বাভাবিক ছিল। 

হজে যাওয়ার জন্য মানুষ খোলাবাজার থেকে ডলার কিনেছে। ঈদের ছুটিতে বিদেশ যাওয়ার জন্যও অনেকে ডলার কিনেছে। কিন্তু এখন ডলারের এরকম চাপ থাকার কোনো কারণ নেই। এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধচক্র কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, একটি মহল ডলারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে একটি অস্থির পরিস্থিতি তৈরী করার চেষ্টা করছে বলে তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে। আর এই কারনেই ডলার কেনা বেচায় তদারকির উপর গুরুত্ব দিয়েছে সরকার।

তবে বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, ষড়যন্ত্র ছাড়াও কিছু মানুষ লোভে পড়ে খোলাবাজার থেকে ডলার কিনছে। তারা মনে করছে যে, এখন যদি ডলার খোলাবাজার থেকে কেনা যায় তাহলে অনেক লাভ করা যাবে, অনেক বেশি দামে বিক্রি করা যাবে। এক মাস আগেই যেখানে ডলারের মূল্য ছিল ১০০ টাকার নিচে, ৯৮ টাকার আশেপাশে, সেখানে এখন ডলার ১১২ টাকা। কাজেই বিপুল ডলার কিনে বাড়িতে মজুদ রাখলে সেটি ভালো ব্যবসা করা যাবে এবং প্রচুর মুনাফা করা যাবে। এমন ধারণা থেকে কেউ কেউ বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ ডলার কিনছে বলে অনেকে মনে করছেন। তবে সরকার বলছে যে, শেয়ার মার্কেট আর ডলারের মার্কেট এক না। এরকম ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতিতে কতজন মানুষ বিপুল পরিমাণ ডলার বাজার থেকে কিনবে তা বোধগম্য নয়। আর এ কারণেই সরকার মনে করছে এর পিছনে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র আছে। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে নানামুখী কথাবার্তা বলা হচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়েও সরকার সমালোচনার মুখে। এরকম পরিস্থিতিতে বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে ডলারের দাম বাড়ছে। এটি নিয়ে জনমনে এক ধরনের অস্বস্তি এবং অস্থিরতা তৈরি চেষ্টা করা হচ্ছে।

সরকারের একাধিক সূত্র মনে করছেন যে, সরকারকে চাপে ফেলার জন্য একটি চক্র ডলার বাজারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এরাই বিপুল পরিমাণ ডলার কিনে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। বিএনপি-জামায়াত গত কিছুদিন ধরেই আর সরকারকে চাপে ফেলার জন্য মাঠে নেমেছে এবং তারা সরকারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিকভাবে ব্যর্থতার অভিযোগ আনছে। সরকার একাধিক সূত্র মনে করছে যে, বিএনপি-জামায়াতের একটি অংশ বাংলাদেশে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। ডলার বাজারেও এদের প্রভাব রয়েছে। এদের কারসাজিতেই ডলারের দাম বাড়তে পারে বলে অনেকে মনে করছে। কারণ স্বাভাবিকভাবে স্বাভাবিক ক্রেতাদের ডলার কেনার জন্য এত হুমড়ি খেয়ে পড়ার কথা নয়। এ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে যে, বিএনপির কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা যেমন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ যারা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং যারা নানাভাবে বৈদেশিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে যোগসূত্র রাখেন, তারা এর নেপথ্যে থাকতে পারেন। আর সরকার বলছে যে, ডলার নিয়ে কারসাজির নেপথ্যে যারাই থাকুক না কেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Share This Article


হাসপাতালের মর্গে সেই শিক্ষিকার মরদেহ, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সরকার কখনোই চায় না মানুষ কষ্টে থাকুক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

টানা সাতদিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা

অন্যান্য দেশের তুলনায় মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশে কম: তথ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্বেই নির্বাচন হবে: খায়রুজ্জামান লিটন

অর্থনীতিতে বিদ্যমান চাপ সাময়িক: ঢাকা চেম্বার

সারের মজুত পর্যাপ্ত, বেশি দামে বিক্রি করলে ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী

মিসরে গির্জায় অগ্নিকাণ্ড, নিহত ৪১

সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে প্রধানমন্ত্রী: ডিএমপি কমিশনার

অবসরের ইঙ্গিত দিলেন আনচেলত্তি

সিগারেটে স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্মানহানিও হয়: শাজাহান খান

মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করতে পারছি, লাঘবের চেষ্টা করছি: প্রধানমন্ত্রী

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ টাকা কেজিতে চাল

২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো একজনের মৃত্যু, শনাক্ত ২২৬