রনির স্বারকলিপির জবাবে যা বললো রেলপথ মন্ত্রণালয়

৭ জুলাই থেকে রেলের টিকিট ক্রয়ের ক্ষেত্রে সহজ ডটকমের ‘যাত্রী হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করা’সহ ৬ দফা দাবি জানিয়ে জবাবের ৪৮ ঘন্টা সময় বেঁধে দিয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান কর্মসূচি নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি।

২১ জুলাই বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই রেল মন্ত্রনালয় গুরুত্ব সহকারে স্মারকলিপির জবাব দিলেও রনি তার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। জবাবের পরও তার এই অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

অনলাইনে টিকিট কেনায় বিষয় ব্যাখ্যায় রেল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিটিং সিস্টেমে বা প্রক্রিয়ায় অনলাইন কোটার টিকিট ব্লক করার বা বুকিং করার কোনও সুযোগ নেই। এছাড়াও অনলাইন বা কাউন্টার (অফলাইন) টিকিটিংয়ে সকলের সমান অধিকারের পাশাপাশি টিকিট প্রাপ্যতা সাপেক্ষে রেলওয়ে কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে টিকিট ক্রয় করতে পারে। বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিটিং সিস্টেমে টিকিট বৈষম্যের কোনও সুযোগ নেই। বাংলাদেশ রেলওয়েতে টিকিট কালোবাজারির বিরুদ্ধে নানাবিধ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

একজন ব্যক্তি যেন বিভিন্ন নামে ও পরিচয়ে টিকিট কেনার সুযোগ না পান, সে জন্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে চুক্তি করে টিকেটিং ব্যবস্থাপনায় জাতীয় পরিচয়পত্র ভেরিফাই করার প্রক্রিয়া চালুর কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়টি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. শরিফুল আলমের সই করা বক্তব্যটিতে প্রতিটি দাবি ধরে জবাব দেওয়া হয়।

এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের কম্পিউটারাইজড টিকেটিং ১৯৯৪ সাল থেকে চালু রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২৭টি স্টেশনে স্ট্যান্ড এলোন সিস্টেমে টিকেটিং চালু হলেও সময়ের পরিক্রমায় ও ডিজিটাল পদ্ধতির আধুনিকতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে সর্বাধুনিক টেকনোলজিক্যাল কৌশলের মাধ্যমে ৮৩টি স্টেশনে টিকেটিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সহজ লিমিটেড বর্তমানে রেলওয়ের টিকিটিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে কাউন্টার, অনলাইন ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীদের টিকিট ইস্যু করা হচ্ছে। টিকিট ইস্যুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্তৃক নিয়মিত মনিটরিং করা হয় এবং যাত্রী হয়রানির কোনও অভিযোগ রেলওয়ের কোনও কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত হলে তা তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

বিগত ২৮ বছর ধরে চলমান সিস্টেমের যাত্রী চাহিদা বা প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে যখনই প্রয়োজন হয়েছে, তখনই সিস্টেমটির মানোন্নয়ন করা হয়েছে। কারণ, বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রী সেবা প্রদানের জন্য দেশের নাগরিকের কাছে দায়বদ্ধ। যদি রেলওয়ের টিকিটিং সিস্টেমের উন্নয়নে সুস্পষ্ট অভিমত, মতামত বা সুপারিশ পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ে তা বাস্তবায়ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিজ্ঞপ্তির দ্বিতীয় অংশে বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়েতে টিকিট কালোবাজারির বিরুদ্ধে নানাবিধ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। টিকিটের ওপর যাত্রীর নাম, এনআইডি নম্বর, বয়স, ও জেন্ডার উল্লেখ থাকে যাতে একজনের নামে ক্রয় করা টিকিটে অন্যজন ভ্রমণ করতে না পারে।

তাছাড়া অনলাইন বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি সাতদিনে সর্বোচ্চ দুই বারের বেশি রেলওয়ের টিকিট ক্রয় করতে না পারে, টিকিটিং সিস্টেমে সে ব্যবস্থা রাখা আছে। ‘টিকিট যার ভ্রমণ তার’ স্লোগান বাস্তবায়নে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে রেলওয়ের গৃহীত কার্যক্রমের মাধ্যমে টিকিট কালোবাজারি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে বলেও জবাবে জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, তবে এ ব্যাপারে কারও যেকোনও সুপরামর্শ পাওয়া গেলে বাংলাদেশ রেলওয়ে তা বাস্তবায়ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক রেলযোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যাত্রীসেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে আরও জানানো হয়, রেলওয়ের বিভিন্ন অনিয়ম সম্পর্কে অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে প্রচলিত আইনানুসারে তদন্তক্রমে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।

ট্রেনের পরিসংখ্যান উল্লেখ করে রেলওয়ে জানায়, যাত্রী চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেনের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বাংলাদেশ রেলওয়েতে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করত ২১৮টি। আর বর্তমানে রেলওয়েতে যাত্রীবাহী ট্রেনের সংখ্যা ৩৬৬টি।

এ ছাড়া রেলওয়ের নেটওয়ার্ক ও ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর নানা প্রকল্প চলমান জানিয়ে বলা হয়েছে, শিগগিরই আরও ১৬টি জেলা রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে।

রেলে যাত্রীসেবা বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বলে, বাংলাদেশ রেলওয়েতে বর্তমান জনবল কাঠামো অনুযায়ী টিটিই পদমঞ্জুরি ৩৬৯টি, কর্মরত ১২২ জন, শূন্য ২৪৭টি পদ। টিসি পদমঞ্জুরি ৩৬৩টি, কর্মরত ১১৬ জন এবং শূন্য ২৪৭টি পদ। টিকিট চেকিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত অধিকাংশ পদ খালি থাকায় চেকিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে বর্তমানে চলমান নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে ট্রেনে মনিটরিং কার্যক্রম আরও সুচারুভাবে করা যাবে।

ট্রেনে খাবার সরবরাহের বিষয়ে রেলওয়ে থেকে ব্যাখ্যায় বলা হয়, রেলওয়েতে বর্তমান বাজারমূল্যের থেকে কমে খাবারের দাম নির্ধারিত রয়েছে। হ্রাসকৃত ও ন্যায্য মূল্যে খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করতে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

আন্তনগর ট্রেনের প্রতিটি কোচে খাবারের মূল্যতালিকা টানানোর পাশাপাশি রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফোন নাম্বার উল্লেখ থাকে বলেও দাবি করেছে মন্ত্রণালয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে অথবা মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনাকালীন খাবারের মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত আদায় করা হলে প্রচলিত নিয়মানুযায়ী ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।

বিনা মূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ ও বড় বড় স্টেশনে বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ৬০টি স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম উচ্চতা বাড়ানো, পরিবেষ্টনীসহ আধুনিকায়নের কার্যক্রম চলমান।

Share This Article


প্রধানমন্ত্রী গ্রামাঞ্চলের মানুষদের ভালোবাসেন: পরিকল্পনামন্ত্রী

ডলারের ব্যবহার কমাচ্ছে ভারত

ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ১১

ক্ষমতা দেওয়ার মালিক মহান আল্লাহ: ওবায়দুল কাদের

আফিফ-বিজয়ের ফিফটিতে বাংলাদেশের মাঝারি সংগ্রহ

জেপার্ড অ্যান্টি এয়ারক্রাফট সিস্টেম ধ্বংসের দাবি রাশিয়ার

সেই বিষয়ে ইরানে প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেছে রুশ সেনারা

বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির বিষয়ে ব্যবস্থা: বেবিচক চেয়ারম্যান

সৈন্যরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকবে: চীন

থাইরয়েড হরমোনে মুখের যেসব সমস্যা হয়ে থাকে

‘গোল্ডেন সিক্স’ - একসঙ্গে আশরাফুল ও জাহানারা আলম

লাল সিং চাড্ডায় আমিরের পারিশ্রমিক ৫০ কোটি, কারিনার কত?

বিএনপিকে জবাব দিতে আ.লীগ মাঠে থাকবে: তোফায়েল আহমেদ

বিমানবন্দর সড়কে তিন লেন বন্ধ: যাত্রীদের সময় নিয়ে যাত্রার অনুরোধ

প্রেমিকের গায়ে হলুদের খবরে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা