আতঙ্কের কারণ নেই

 

বিশেষ প্রতিনিধি


সরকারী সকল দফতরে বিদ্যুতের ব্যবহার ২৫ শতাংশ কমানোর পাশাপাশি ব্যয় সাশ্রয় এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট ৮টি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রাজস্ব ব্যয় সংকোচন, উন্নয়ন ব্যয়ের সর্বোত্তম ব্যবহার, বিদ্যুত ও জ্বালানি সাশ্রয়, অনাবশ্যক ব্যয় পরিহারসহ অত্যাবশ্যক না হলে বিদেশ ভ্রমণ যথাসম্ভব পরিহার করতেও সরকার থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।


 

সরকারের ব্যয় সাশ্রয়ে কার্যকর কর্মপন্থা ঠিক করতে বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের নিয়ে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।



প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিবদের বৈঠকে কোভিড পরবর্তী অর্থনৈতিক অভিঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সরকারের ব্যয়-সাশ্রয় নীতি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে গৃহীত ৮টি সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে- (১) বিদ্যুত ও জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনতে সকল মন্ত্রণালয় (মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সকল অফিস) প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা নিরূপণ করবে। সরকারী সকল দফতরে বিদ্যুতের ব্যবহার শতকরা ২৫ ভাগ হ্রাস করতে হবে। (২) জ্বালানি খাতের বাজেট বরাদ্দের ২০ শতাংশ কম ব্যবহারের লক্ষ্যে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় পরিপত্র জারি করবে। অর্থাৎ সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা তেল ব্যবহার করেন, এখন তাদের বরাদ্দ ২০ শতাংশ কম হবে।



গৃহীত সিদ্ধান্তের মধ্যে আরও রয়েছে- (৩) অনিবার্য না হলে শারীরিক উপস্থিতিতে সভা পরিহার করতে হবে এবং অধিকাংশ সভা অনলাইনে আয়োজন করতে হবে, (৪) অত্যাবশ্যক না হলে বিদেশ ভ্রমণ যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। (৫) খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে বাজার মনিটরিং, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মজুদদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াসহ অন্যান্য পদক্ষেপ জোরদার করতে হবে। (৬) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার যৌক্তিকীকরণের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। (৭) অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বৃদ্ধিকল্পে অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এনবিআরকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সর্বশেষ (৮) প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজস্ব ক্রয় পরিকল্পনা পুনঃপর্যালোচনা করে রাজস্ব ব্যয় হ্রাসের উদ্যোগ নেবে।

সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি প্রেস ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে, অনেকে আতঙ্কগ্রস্থ হচ্ছে। আসলে আতঙ্কগ্রস্থ হওয়ার কোন কারণ নেই। ভবিষ্যতে যাতে আমাদের কোন খরায় (সঙ্কট) পড়তে না হয়, সেজন্য সংযমী হতে এখন থেকেই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ব্রিফিংকালে বলেন, আমাদের অবস্থা খারাপ, এ রকম কোন বিষয় নয়। কিন্তু আমরা দেখছি, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মন্দা যাচ্ছে, খাদ্য সঙ্কট দেখা দিচ্ছে, বিভিন্ন দেশে বিদ্যুত ও জ্বালানির সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আমরা আগেই পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি, যাতে এ জাতীয় সমস্যায় না পড়ি।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস রাজস্ব ব্যয় সংকোচন, উন্নয়ন ব্যয়ের সর্বোত্তম ব্যবহার, বিদ্যুত ও জ্বালানি সাশ্রয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের মূল্য সহনশীল পর্যায়ে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সচিবদের অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি মন্ত্রণালয়গুলোকে অনাবশ্যক ব্যয় পরিহারসহ সব ক্ষেত্রে ব্যয় হ্রাসের নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মোঃ রহমাতুল মুনিম, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব ফাতেমা ইয়াসমিনসহ সংশ্লিষ্ট সচিবরা আলোচনায় অংশ নেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে অনাবশ্যক ব্যয় কমানোর ওপর জোর দেয়া হয়। সরকারের গৃহীত প্রকল্পগুলো যাতে যথাসময়ে বাস্তবায়ন হয়, এসব ক্ষেত্রে ব্যয় যাতে কোনভাবেই বেশি না হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়নের ওপর তাগিদ দেয়া হয়। সচিবগণ নিজ নিজ মন্ত্রণালয়/বিভাগে কীভাবে জ্বালানি-বিদ্যুত সাশ্রয়সহ অনাবশ্যক ব্যয় কমানো যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করবেন। এছাড়া বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা-ঘাটগুলো যাতে দ্রুত মেরামত করা যায় সে বিষয়েও বৈঠকে তাগিদ দেয়া হয়।

সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকের আগের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার একনেকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই বিদ্যুতসহ সব ক্ষেত্রে জনগণকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মিতব্যয়ী হতে হবে। দেশের জনগণকেও মিতব্যয়ী হতে হবে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সামগ্রিকভাবে সারাবিশ্বেই সাধারণ মানুষের জন্য ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলসহ প্রতিটি জিনিসের দাম অসম্ভব বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারকে বিপুল অঙ্কের টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। প্রায় তিনগুণ দামে জ্বালানি তেল কিনে এনে সামান্য দামে বিক্রি করতে গিয়ে সরকারের রিজার্ভের ওপরও বড় ধরনের চাপ আসার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এসব কারণে সরকার থেকে বাধ্য হয়েই রেশনিং সিস্টেমে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জ্বালানি তেলে চলা অনেক বিদ্যুত কেন্দ্র বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে।

 

এসব সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আগে থেকেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতেই সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। সবক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হয়ে রাজস্ব ব্যয় সংকোচন, উন্নয়ন ব্যয়ের সর্বোত্তম ব্যবহার, বিদ্যুত ও জ্বালানি সাশ্রয়, অনাবশ্যক ব্যয় পরিহারসহ অত্যাবশ্যক না হলে বিদেশ ভ্রমণ যথাসম্ভব পরিহার করতেও সরকার থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

Share This Article


আমাদের দল প্রাণশক্তিতে ভরপুর: জেমি সিডন্স

সাজেদা চৌধুরীর আসনে মনোনয়ন পেলেন ছেলে শাহদাব

ভারতে তুষারধসে ১০ পর্বতারোহীর মৃত্যু, নিখোঁজ ১১

পিতা-পুত্রের জন্মদিন

২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ

ঝড়ের সম্ভাবনা, সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা সংকেত

ভিসার নিয়মে যে পরিবর্তন আনল সংযুক্ত আরব আমিরাত

কোভিড: বিশ্বে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হাজার ছাড়াল, আক্রান্ত ৪ লাখ

উত্তরাখণ্ডে বিয়েবাড়িতে যাওয়ার সময় বাস খাদে, নিহত ২৫

কিমের মিসাইলের জবাবে পাল্টা ৪ মিসাইল দ. কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের

শিক্ষকদের দিয়েই শিক্ষার রূপান্তর শুরু

বঙ্গভবনে দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন রাষ্ট্রপতি

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

বিদায় নেবেন মা দুর্গা, ভক্তদের মনে বিষাদের ছায়া

গুপ্তচর সন্দেহে তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমারের ২ নাগরিক আটক