৭৪ বছরের ইতিহাসে তীব্র তাপদাহ

শ্রাবণে মেঘের দেখা নেই আকাশে। ভরা শ্রাবণে চলছে খরা। বৃষ্টি খরায় বিপর্যস্ত মানুষ। তীব্র রোদে হাঁসফাঁস নগর জীবন। রোদের প্রখরতায় থমকে যাচ্ছে জীবনযাত্রা।

বর্ষার আকাশে শরতের প্রতিচ্ছবি। মাঝে মধ্যে সূর্য মেঘে ঢাকা পড়লেও গরমের তীব্রতা নভ কমে আরো বাড়ে। এই বর্ষাকালে সকালে সূর্যের আলো ফুটতেই শুরু হয় গরম । দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অসহ্য গরম থাকে। সন্ধ্যার পর গুমট হয়ে ওঠে পরিবেশ, রাতেও ভ্যাপসা গরম। এমন অবস্থায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

 

মানুষের কষ্ট হয়ে উঠেছে অসহনীয়। আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ ড. আব্দুল্লাহ মান্নান রোববার (১৭ জুলাই) বলেন, প্রতি বছরই তিন চারটি তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয়। তবে এবারের জুলাই মাসের তাপপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী আর অনেক শক্তিশালী। এর প্রভাব দেশজুড়ে।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে মৃদু থেকে মাঝারি রূপ নিয়েছে তাপদাহ। ১৫ জুলাই শুক্রবারে, দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো রাজশাহীতে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সৈয়দপুরে তাপমাত্রা ছিলো ৩৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা।

ড. মান্নান বলেন, গত দুইদিনের ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী ছিলো, অনেকটাই অস্বাভাকি বলা যায়। রাতের তাপমাত্রা তেমন বেশী ছিলো না, ১-৩ ডিগ্রী বেশী ছিলো। ১৯৪৮ সাল থেকে ২০২২ সালের আবহাওয়ার তথ্যবিশ্লেষণ করলে ৭০-৭৪ বছরের ইতিহাসে এই সময়ের মধ্যে জুলাই মাসে সর্বচ্চোতাপ মাত্রা উঠেছে ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

এই তামাত্রা ১৯৮২ সালের ১৮ জুলাই পাবনার ঈশ^রর্দীতে একবার। চলতি বছর জুলাইতে ৩৯ সেলসিয়াস তাপমাত্রা। এছাড়া ৩৯ দশমিক ৫ সেলসিয়াস এপর্যন্ত দুইবার ২০০০ সালের ২ জুলাই মাদারিপুর আর ৩ জুলাই ১৯৭২ সালে দিনাজপুরে। এর পরে ৩৯ দশমিক ২ সেলসিয়াস ১৯৯৯ সালে ৪ জুলাই শ্রীমঙ্গলে। ৩৯ দশমিক ১ সেলসিয়াস তাপমাত্রা, ২০১৮ সালের ২০ জুলাই সৈয়দপুরে।

১৯৮২ সালে আরেকবার রংপুরে ৩৯ দশমিক  সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছিলো। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ৭৪ বছরের ইতিহাসে চলতি বছর ২০২২ সাল এপর্যন্ত সম্পতমবারের মতো রাজশাহীতে ৩৯ দশমিক সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর আগে ৩৮ দশমিক ৫ সেলসিয়াস তাপমাত্রা সৈয়দপুরে ১৫ জুলাই। বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) সিলেটে ৩৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যা গত ৭৪ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এর মধ্যে সপ্তমবার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানালেন তিনি। স্বাভাবিকভাবে যখন মৌসুমী বায়ু সেট হয় ১৫ জুন, জুলাই, আগষ্ট , সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। মৌসুমী বায়ুর নিয়ম হচ্ছে দুটি একটি গ্রেটমনসুন আর ব্রেকমনসুন।

ব্রেক মনসুনে বৃস্টি কম হয় আর অ্যাক্টিভ মনসুনে টানা বৃষ্টি হয়। দুটো মুনসুনেরই ভারসাম্য থাকতে হবে। যখনই গ্রেট মুনসুনের প্রভাব থাকবে তখনই বৃষ্টিপাত কম হবে এবং তাপমাত্রার উষ্ঞতা বেড়ে যায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান আরো বলছেন, প্রকৃতিতে বর্ষাকাল চললেও আকাশে যে পুঞ্জিভূত মেঘের অক্ষ সেটা বর্তমানে ভারতের উড়িষ্যা কোষ্ট বরাবর পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করছে। এ কারণে বাংলাদেশে বৃষ্টির দেখা নেই।

এই অক্ষ বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে গেলেই মুষলধারে বৃষ্টি সম্ভব বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি বলেন বৃষ্টি হতে আরো দুই থেকে তিনদিন সময় লাগবে। ইতিমধ্যে সিলেটে বৃস্টি হলেও সেটা লোকাল বৃস্টি ১৬৩ মিলিমিটার রাঙা মাটিতে ৮৬ মিলিটার গত ২৪ ঘণ্টায়।

 

মান্নান বলেন, গত ৫ জুলাই থেকে  তাপপ্রবাহ চলছে, বৃষ্টির ঘনঘটা কম, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি, আকাশ মেঘমুক্ত একই সাথে প্রখর সূর্যকিরণ। সব মিলিয়ে অসহনীয় অবস্থা। এটা আরও ২০-২১ জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। ভারী বৃষ্টি ছাড়া গরম কমবে না। দুইদিন পরেও ভারী বৃষ্টিপাত হবে কিনা সেটাও নিশ্চিত না।

আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, সারাদেশে তাপদাহ থাকবে। কয়েক বছরের তুলনায় এবারের তাপদাহ অনেক তীব্র, অনেক শক্তিশালী। তীব্র এই তাপদাহ থেকে মুক্তি মিলবে ভারি বর্ষণ হলে। আগামী দুই একদিনে বৃষ্টির তেমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সহজেই মুক্তি মিলছে না এই সমস্যা থেকে।

Share This Article


ডিজিটাল জীবনযাত্রার বৈশ্বিক সূচক: ২৭ ধাপ উন্নতি বাংলাদেশের

ভারতীয় কাশির সিরাপ খেয়ে ৬৬ শিশুর মৃত্যু: গাম্বিয়ায় তদন্ত শুরু

বোন রেহানাকে নিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছেছেন শেখ হাসিনা

ছক্কার আশায় আউট মিরাজ

খেরসনে বড় সাফল্য পাওয়ার দাবি ইউক্রেনের

ঢাকা আসছেন নোরা ফাতেহি

যেভাবে এসেছে ‘বিশ্ব মৃদু হাসি দিবস’

পদ্মা সেতু হয়ে বাড়ি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

১৬৮ রানের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ব্যাটে বাংলাদেশ

কথিত হিজরতের উদ্দেশ্যে যাওয়া তিন তরুণসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব

বিভ্রান্তিতে পাঠক:পুরনো নিউজ বাজারে ছাড়ছে বিবিসি

‘হয় জিততে হবে, নয় মরতে হবে:সহিংসতার নির্দেশ তারেকের!

অভিষেকে হ্যাটট্রিক করে যা বললেন ফারিহা তৃষ্ণা

আমেরিকায় যাওয়া ক্যানসেল পূজার

এবার কি হবে বলে ইঙ্গিত দিলেন মিম